অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায়ের জন্য আগামী ৭ জুন (রবিবার) দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায়ের এ দিন নির্ধারণ করেন। এর আগে, সকালে কঠোর নিরাপত্তায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে আদালতে হাজির করা হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণের দাবি তুলে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ আসামিদের নির্দোষ দাবি করে আইনি যুক্তি উপস্থাপন করেন। এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১ জুন (সোমবার) আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরদিন চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। গতকাল বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করার পর আজ যুক্তিতর্ক শেষ হলো।
এর আগে, গত ২৪ মে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেয়। একই দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এই অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আইনি নিয়ম অনুযায়ী মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না খাতুন তাকে কৌশলে নিজেদের ঘরের ভেতরে ডেকে নেয়। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশীর ঘরের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে তিনি ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার দেহ এবং ঘরের ভেতরে একটি বড় বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে তথ্য পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বপ্না খাতুনকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার প্রধান সহযোগী ও মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরদিন, অর্থাৎ ২০ মে নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু অধিকার রক্ষা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই মামলার দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল ও সাক্ষ্যগ্রহণ একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। রাজধানীর বুকে একটি শিশুকে ডেকে নিয়ে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। আগামী রবিবারের রায়ের মাধ্যমে এই নৃশংস অপরাধের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করছেন।


