অপরাধ ডেস্ক
নোয়াখালী সদর উপজেলায় একটি মেকানিক দোকানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ মাদক কারবারের সন্ধান পেয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা ও মাদক বিক্রির নগদ টাকাসহ মো. আব্দুল হামিদ (৪৫) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহব্বতপুর এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল হামিদ ওই এলাকার হামিদ মিয়ার বাড়ির মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। অভিযানে তার হেফাজত থেকে ৭০০ পিস ইয়াবা, ৭ কেজি গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল হামিদ দীর্ঘদিন ধরে মহব্বতপুর এলাকায় একটি মেকানিক দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতেই মূলত তিনি এই পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল বুধবার সন্ধ্যায় ওই দোকানে অতর্কিত অভিযান চালায়। এ সময় পুরো দোকান তল্লাশি করে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা উল্লিখিত পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয় এবং অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে হামিদকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আপাতদৃষ্টিতে আব্দুল হামিদকে একজন সাধারণ মেকানিক মনে হলেও তার রহস্যজনক আচরণ এবং দোকানে বিভিন্ন অপরিচিত ব্যক্তির যাতায়াত নিয়ে দীর্ঘদিনের সন্দেহ ছিল। এলাকার তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং আইন-শৃঙ্খলার সার্বিক সুরক্ষায় এই ধরনের অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মাদক চোরাচালান ও স্থানীয় পর্যায়ে এর বিস্তারের এই ঘটনাটি বাংলাদেশের প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে মাদক সিন্ডিকেটের নিত্যনতুন কৌশলের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ ব্যবসার আড়ালে মাদক কেনাবেচা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহিউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত সমস্ত মাদকদ্রব্য ও নগদ টাকা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর আসামির বিরুদ্ধে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এবং জেলাকে সম্পূর্ণ মাদক মুক্ত করতে ডিবি পুলিশের এই ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


