জাতীয় পাট দিবসে আধুনিক স্বাস্থ্যপণ্য উদ্ভাবনে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাতীয় পাট দিবসে আধুনিক স্বাস্থ্যপণ্য উদ্ভাবনে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাতীয় ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিত্যনতুন আধুনিক, মানসম্মত ও ব্যবহারোপযোগী স্বাস্থ্যপণ্য উদ্ভাবনে উদ্যোক্তা ও তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পাটশিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি কৃষকদের পাট চাষে আরও উৎসাহিত হওয়ার আহ্বান জানান।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি পাট খাতের বিকাশ, বহুমুখী পাটজাত পণ্য উৎপাদন এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে পাটের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী বাড়ছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাটভিত্তিক আধুনিক স্বাস্থ্যপণ্যসহ বিভিন্ন ব্যবহারোপযোগী পণ্য উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে আরও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। তিনি উদ্যোক্তাদের স্বল্পমূল্যে পাটের ব্যাগ উৎপাদন ও বিপণনের উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান, যাতে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়।

তিনি সৃজনশীল তরুণ প্রজন্মকে স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির মতে, বৈশ্বিক ই–কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে দেশীয় পাটজাত পণ্য বিশ্ববাজারে নতুনভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব। এতে একদিকে রপ্তানি বাড়বে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, বহু মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় অগ্রসর হয়েছে। সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে হলে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আরও সমৃদ্ধ হতে হবে এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের দিকে এগোতে হবে। রাষ্ট্রপতির ভাষায়, একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিল্প, কৃষি ও প্রযুক্তি খাতের সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। জাতীয়ভাবে পাট দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর ৬ মার্চ দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। পাটের ঐতিহ্য, সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং এই খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই দিবসটি পালনের অন্যতম লক্ষ্য।

এ বছরের পাট দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘পাটশিল্প গড়ে তুলুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন’। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্প হিসেবে পাট খাতের বিকাশ ঘটলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

দিবসটি উপলক্ষে পাট খাতে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ১২ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হয়। পাটচাষ সম্প্রসারণ, গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, উন্নত পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন, প্রচলিত ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাট খাতকে আরও গতিশীল করতে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। পাটভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, পাট খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, গবেষক এবং কৃষি ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা পাট শিল্পের আধুনিকায়ন, গবেষণা ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ খাতকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ