জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের জন্য দুই দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রাজধানীর গুলশানে দলটির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে শুক্রবার সকালে কর্মশালার উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদের কার্যক্রম, নীতিনির্ধারণ এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিনিধিদের প্রস্তুত করতে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরুর আগে দলীয়ভাবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের দায়িত্ব, সংসদীয় আচরণবিধি এবং প্রশাসনিক সমন্বয় বিষয়ে ধারণা দিতে এই প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
দুই দিনের কর্মশালাটি বিভিন্ন সেশনে ভাগ করে আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম দিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সেশনে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টারা অংশ নিচ্ছেন। এরপর মধ্যাহ্ন বিরতির পর বিকেল আড়াইটায় দ্বিতীয় সেশন শুরু হয়, যা চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এই সেশনগুলোতে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা, নীতি বাস্তবায়নের কাঠামো এবং মন্ত্রণালয়সমূহের সঙ্গে সমন্বয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
কর্মশালার প্রথম দিনের সেশনগুলোতে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ফরিদপুর বিভাগের কিছু সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। আগামী ৭ মার্চ কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে একই পদ্ধতিতে সকাল ও বিকেলের পৃথক সেশন অনুষ্ঠিত হবে। সকালবেলার সেশনে ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহ এবং ঢাকা বিভাগের অন্যান্য সংসদ সদস্যদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিকেলের সেশনে সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।
দলীয় নেতাদের মতে, সংসদের নতুন মেয়াদ শুরু হওয়ার আগে সংসদ সদস্যদের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, সংসদীয় প্রশ্নোত্তর, স্থায়ী কমিটির কার্যক্রম এবং স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রস্তুত করা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে।
এছাড়া দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত বিভিন্ন অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া মন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকদের জন্য পৃথকভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, নীতি বাস্তবায়ন এবং সরকারি কার্যক্রমের তদারকি বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, নীতিমালা বাস্তবায়নের ধাপ এবং প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় রক্ষার কৌশলও আলোচনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক নিয়েও কর্মশালায় আলোচনা হচ্ছে। সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিনিধিদের সচেতন করা হচ্ছে।
নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালাকে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি প্রস্তুতিমূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়। এর মাধ্যমে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদীয় কার্যক্রমের কাঠামো, আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন, যা সংসদের কার্যকর কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।


