সারাদেশ ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সব ধরনের নাগরিক সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামালের আকস্মিক পরিদর্শনের পর তিন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করায় এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এতে অফিসে আগমণকারী সাধারণ সেবাগ্রহীতারা দিনভর ভোগান্তিতে পড়েছেন।
জানা গেছে, গত বুধবার (৪ মার্চ) সকালে প্রতিমন্ত্রী কোনো পূর্বনোটিশ ছাড়াই সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তিনি দেখতে পান, অফিস নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও তালাবদ্ধ এবং কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত নেই। কর্মকর্তাদের এই অনুপস্থিতি ও অপেশাদার আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
বদলিকৃত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন, উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক এবং অফিস সহকারী জান্নাতী। নাসির উদ্দিন ও ওমর ফারুককে আড়াই হাজারে এবং অফিস সহকারী জান্নাতীকে বন্দর উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।
সাধারণ সেবাগ্রহীতারা এই পরিস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শাহজাহান নামের এক ব্যক্তি বলেন, “ভূমি অফিসে কাজ করানো মানে ভোগান্তি সহ্য করা। মন্ত্রী আসছে শুনে আজ আসছিলাম, তবে কোনো কর্মকর্তা পাইনি।” খাইরুল নামের আরেক ব্যক্তি জানান, “আমার জমির খাজনা সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। সমাধান জানতে এসেছিলাম, কিন্তু কোনো কর্মকর্তা না থাকায় ফিরে যাচ্ছি।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, বুধবার রাতেই তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, তাৎক্ষণিক বদলির কারণে আজ ওই ভূমি অফিসের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে নতুন কর্মকর্তারা যোগদান করলে আগামী কার্যদিবস থেকে এখানে সকল নাগরিক সেবা স্বাভাবিকভাবে পুনঃচালু হবে।
সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এই আকস্মিক বদলির ঘটনা সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে জমি সংক্রান্ত নথি যাচাই, খাজনা প্রদান ও আবেদন প্রক্রিয়ায় লোকসান ও সময়ের ক্ষতি হয়েছে। অফিসের নতুন কর্মকর্তা যোগদান করার পর নাগরিক সেবা স্বাভাবিক হলেও সরকারি সেবার ধারাবাহিকতা ও দায়িত্বশীলতা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা অব্যাহত রাখা জরুরি হবে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক তৎপরতা, কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও দায়িত্বশীলতার মান উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার গতি নিশ্চিত করার প্রয়াস সরকারের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।


