জাতীয় ডেস্ক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন; তিনি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান সংবিধান ও সংসদীয় রীতির অংশ। তিনি বলেন, সংসদের কার্যক্রমকে অর্থবহ ও স্মরণীয় করে তুলতে সরকার ও সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যদের জন্য অনুষ্ঠিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণের বিভিন্ন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে এবং সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নের অন্যতম ক্ষেত্র হলো সংসদ। এজন্য সংসদকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় সাংবিধানিক বিধান ও সংসদীয় রীতি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতির ভাষণ সংসদের অধিবেশনের একটি স্বীকৃত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, যা সংসদের কার্যক্রমের সূচনা এবং সরকারের নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনার দিকনির্দেশনা তুলে ধরে। এ ধরনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে সংসদের মর্যাদা রক্ষা করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, সংসদকে স্মরণীয় করে রাখতে হলে আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ এবং জনগণের সমস্যার প্রতিফলন ঘটানোর ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, সংসদ শুধু আইন প্রণয়নের জায়গা নয়; এটি সরকারের কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মঞ্চ।
ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলকে লিখিতভাবে ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাব দেওয়ার কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নেই। তবুও সরকার সংসদীয় সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সহনশীলতার অংশ হিসেবে উদারতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সহনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংসদে বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করে এবং নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়াকে অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব কেবল নিজেদের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জাতীয় স্বার্থে নীতিনির্ধারণ, আইন প্রণয়ন এবং জনগণের সমস্যা সংসদে তুলে ধরাও তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ জন্য সংসদ সদস্যদের সংসদীয় বিধি-বিধান, কার্যপ্রণালী এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যপ্রণালী, আইন প্রণয়ন পদ্ধতি, সংসদে প্রশ্নোত্তর কার্যক্রম এবং কমিটি ব্যবস্থার কার্যকারিতা সম্পর্কে বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা জানান, সংসদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে নতুন ও পুরোনো সংসদ সদস্যদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও গঠনমূলক অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সংসদের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রাখা প্রয়োজন।
আয়োজিত কর্মশালায় দলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং আসন্ন সংসদ অধিবেশনে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।


