জাতীয় ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস শুক্রবার রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেন। তিনি তার নির্বাচনী এলাকার প্রতিদ্বন্দ্বী ও এনসিপি নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে সতর্কবার্তা প্রদান করেন এবং মিথ্যা অপবাদ দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে মির্জা আব্বাস বলেন, “মুরুব্বিরা শিক্ষা দেয়, মিথ্যা বলা মহাপাপ। একটি ব্যক্তির নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে বদনাম করা আরও বড় পাপ। এই পাপ থেকে নিজে দূরে থাকুন এবং আমাদেরকেও দূরে রাখুন।” তিনি এই মন্তব্যের মাধ্যমে তার নির্বাচনী এলাকার প্রার্থী ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্য করেই সুর তুলেন।
শুক্রবারের অনুষ্ঠানে রমনা থানা বিএনপির আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামীম হোসেনের পরিচালনায় মহানগর ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মির্জা আব্বাস তার বক্তব্যে স্থানীয় নির্বাচনী পরিস্থিতি ও ভোট প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিস্তৃত বক্তব্য প্রদান করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, তার এলাকায় ভোট কারচুপি না হলে প্রতিদ্বন্দ্বীরা উল্লেখযোগ্য ভোট প্রাপ্ত হতেন না। তিনি বলেন, “ঢাকা-৮ আসনের একটি ওয়ার্ডে আপনার কোন আত্মীয় আছে যে আপনাকে ভোট দিয়েছে, তা বলতে পারবেন না। আমি নামসহ বলতে পারি কারা আমাকে ভোট দিয়েছে।” মির্জা আব্বাস দাবি করেন, কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী নৈরাজ্যপূর্ণ পদ্ধতিতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন এবং বিএনপির উপর চাপ সৃষ্টি করেছেন।
তিনি আরও বলেন, রাতের বেলায় কিছু স্কুলে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিয়ে ভোট রক্ষা করা হয়েছে। “না হলে সব কেন্দ্র সিল মেরে নিয়ে যেতেন। এভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে,” তিনি বলেন। মির্জা আব্বাস তার নির্বাচনী অঞ্চলের ভোট প্রাপ্তি সম্পর্কেও তথ্য প্রদান করেন এবং নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে তত্ত্বগত প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, তার এলাকায় নির্বাচনে হারার কোনো ইতিহাস নেই। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের আমলে নির্বাচন হয়নি, সেটি সবাই জানে। আমি কোন জায়গায় কত ভোট পেলাম, সেটি দেখার বিষয় নয়। আমার বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন থাকায় আমার ভোটের অভাব নেই। তবে প্রশ্ন হলো, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং না করে প্রতিদ্বন্দ্বীরা কিভাবে এত ভোট পেলেন। আমি প্রমাণ করতে পারব তারা কারচুপি করেছেন।”
মির্জা আব্বাসের এই মন্তব্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্বাচনী আচরণ ও ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে সতর্কবার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তার বক্তব্যে স্থানীয় নির্বাচনী পরিবেশ, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়া এই বক্তব্য পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ও সাধারণ জনগণ ভোট প্রক্রিয়া এবং ফলাফলের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মির্জা আব্বাসের এই বক্তব্য নির্বাচনকালীন সময়ে ভোটের সুষ্ঠু পরিচালনা, ভোটারদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।


