আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরাকের রাজধানী বাগদাদের একটি সামরিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিমানবন্দরের কিছু অবকাঠামোয় আগুন ধরে যায়। শনিবার ইরাকের একটি নিরাপত্তা সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। তবে ঘটনার বিষয়ে ইরাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বাগদাদের সামরিক বিমানবন্দরের ভেতরে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলার ফলে বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট কিছু স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং সেখানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে।
ড্রোন হামলার আগে একই দিন বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় আরেকটি নিরাপত্তা ঘটনা ঘটে। বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকায় একটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, রকেটটি ইরাকের ভেতর থেকেই ছোড়া হয়েছিল।
ঘটনার পরপরই ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে রকেট নিক্ষেপে ব্যবহৃত একটি যানবাহন জব্দ করে। এছাড়া সেখানে নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় থাকা আরও কয়েকটি রকেট উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনী ধারণা করছে, এগুলো একই ধরনের হামলার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও তার আশপাশের এলাকা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই বিমানবন্দরটি ইরাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হওয়ায় সেখানে কূটনৈতিক ও সামরিক স্থাপনা রয়েছে। বিমানবন্দরের নিকটেই মার্কিন দূতাবাস অবস্থিত, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
এদিকে দক্ষিণ ইরাকের বাসরা শহরেও একই দিনে আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানির পরিচালিত তেল ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হয় বলে নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। তবে ওই হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরাক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত তেলক্ষেত্র ও জ্বালানি অবকাঠামো আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। ফলে এসব স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটলে তা শুধু স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নয়, জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাকে বিভিন্ন সময় ড্রোন ও রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে কূটনৈতিক স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামোকে দেখা গেছে। ইরাকি কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনার পেছনে জড়িতদের শনাক্ত ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষ ঘটনাগুলোর পর বাগদাদ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং হামলার পেছনে কারা জড়িত তা নির্ধারণের চেষ্টা করছে।


