যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র উৎপাদন চারগুণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র উৎপাদন চারগুণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দেশের শীর্ষ প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নতমানের অস্ত্রের উৎপাদন চারগুণ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে প্রতিরক্ষা শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই তথ্য জানান তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে উৎপাদন পরিকল্পনা ও উৎপাদনসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনার ভিত্তিতে তারা দ্রুততম সময়ে ‘উন্নত শ্রেণির অস্ত্র’ উৎপাদন চারগুণ বৃদ্ধি করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসব অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ ইতোমধ্যে তিন মাস আগে শুরু হয়েছে এবং অনেক অস্ত্র কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মধ্যম ও উচ্চ-মধ্যম মানের গোলাবারুদের ব্যাপক মজুদ রয়েছে। এই ধরনের গোলাবারুদ সামরিক প্রয়োজনে ইরান ও সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া এই ধরনের অস্ত্রের অর্ডার আরও বাড়ানো হয়েছে।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানি যেমন বিএই সিস্টেমস, বোয়িং, হানিওয়েল এয়ারোস্পেস, এলথ্রিহ্যারিস মিসাইল সল্যুশনস, লকহিড মার্টিন, নর্থরপ গ্রুম্যান এবং রেথিয়নের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সাবেক মার্কিন মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান বলেন, বর্তমানে স্বল্প-পাল্লার যুদ্ধের মাত্রা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এমন উদ্যোগের ফলে দেশটির অস্ত্র সরবরাহ চেইন ও কারখানার উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের প্রভাবও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সময়ে প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক অস্ত্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি দেশটির নিরাপত্তা নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এই ঘোষণার ফলে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রতিযোগিতা ও উৎপাদন ব্যপকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এসব উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলে সামরিক কর্মকাণ্ড ও অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ