অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বিশ্ববাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের স্বর্ণবাজারে দাম হ্রাস পেয়েছে। টানা ছয় দফা দাম বৃদ্ধির পর বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) শনিবার (৭ মার্চ) ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।
বাজুসের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা, যা বুধবার থেকে কার্যকর হয়ে শনিবারও বহাল রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দর কমার ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকায়। পরবর্তীতে আবার দাম বাড়িয়ে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকায় পৌঁছানো হয়। গত সপ্তাহে দুটি দফায় স্বর্ণের দাম মোট ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল, সর্বশেষ দফায় দাম বেড়েছিল চার হাজার টাকারও বেশি।
চলতি বছর দেশে স্বর্ণের দাম মোট ৩৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ১৩ বার কমানো হয়েছে। এই ওঠা-নামা মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্য এবং স্থানীয় চাহিদা-যোগান পরিস্থিতি বিবেচনা করে করা হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম অস্থির থাকায় এবং ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে দেশের বাজারে স্বর্ণের দর প্রায়শই ওঠানামা করছে। বাজুসের এই সাম্প্রতিক হ্রাসে খুচরা গ্রাহকরা স্বল্প সময়ের জন্য স্বর্ণ ক্রয়ে সুবিধা পেতে পারেন।
দেশের জুয়েলারি শিল্পে স্বর্ণের দাম সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যবসায়ীরা জানান, স্থানীয় চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ করা হয়, যাতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের বাজারে স্বাভাবিক লেনদেন চালানো যায়। বিশেষ করে, হোল্ডিং বা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ কিনতে আগ্রহী ব্যক্তিদের এই হ্রাস সহায়ক হতে পারে।
সরকারি ও বেসরকারি অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণের এই ধরনের ওঠানামা দেশের ব্যাঙ্কিং এবং বিনিয়োগ বাজারের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক স্বর্ণমূল্যের পরিবর্তন, ডলারের মান, এবং বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা দেশের স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দামকে প্রভাবিত করে।
বাজুসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের দাম সমন্বয়ের চক্রে স্বর্ণের দর বৃদ্ধিই প্রধান প্রবণতা হলেও, হ্রাসের ঘটনাও কম নয়। এই ওঠানামা মূলত ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের বাজারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
বর্তমান অবস্থায়, বাজারে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল থাকায় খুচরা ক্রেতাদের স্বল্পমেয়াদী স্বর্ণ বিনিয়োগে আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, জুয়েলারি শিল্পের ব্যবসায়ীরা দাম সমন্বয়ের এই ধারা পর্যবেক্ষণ করে তাদের পণ্য পরিকল্পনা ও বিক্রয় কৌশল নির্ধারণ করেন।
উল্লেখ্য, বাজুস স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দর নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, ডলার বিনিময় হার, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং স্থানীয় চাহিদা বিবেচনা করে থাকে। চলতি বছরের এই সমন্বয়গুলি দেশের স্বর্ণবাজারের গতিশীলতা ও বিনিয়োগের ধারা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে।


