ঈদ উপলক্ষে তারেক রহমান ও শাহবাজ শরীফের টেলিফোনে শুভেচ্ছা বিনিময়

ঈদ উপলক্ষে তারেক রহমান ও শাহবাজ শরীফের টেলিফোনে শুভেচ্ছা বিনিময়

জাতীয় ডেস্ক

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরীফ টেলিফোনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদের আগের দিন দুই নেতার মধ্যে এ কথোপকথন অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ সময় উভয় নেতা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানানো হয়, ফোনালাপটি ছিল আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। কথোপকথনের শুরুতে শাহবাজ শরীফ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দেশের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

বার্তায় বলা হয়, শাহবাজ শরীফ বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সব ক্ষেত্রে সম্প্রসারণে পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বাণিজ্য, কূটনীতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন খাতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির সম্ভাবনার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মত দেন।

এদিকে, তারেক রহমান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে পাকিস্তানের জনগণের জন্য শুভকামনা জানান। তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেন বলে জানানো হয়েছে।

ফোনালাপে আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই নেতা। তারা মতপার্থক্য ও বিরোধ নিরসনে সংলাপ এবং কূটনৈতিক উদ্যোগকে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উভয় নেতা আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও তারা একমত হন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সংলাপ বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও সহায়ক হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে এই আলোচনা কতটা কার্যকর ফল বয়ে আনবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের বাস্তব কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ