বাংলাদেশ ডেস্ক
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় নিজগ্রামে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯টায় পেকুয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নামাজ শেষে তিনি স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি উপজেলা মাঠ পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের জামাতে অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা মসজিদে সমবেত হন। নামাজ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত জনসাধারণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নামাজ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলা মাঠ পরিদর্শন করেন। মাঠটির বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাঠটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। মন্ত্রীর এই নির্দেশ বাস্তবায়িত হলে এলাকার ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, জাতীয় অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বৈশ্বিক প্রতারণা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। এ ধরনের অপরাধ মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। এই সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে বহুপাক্ষিক উদ্যোগ এবং কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় মানবিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কক্সবাজার জেলায় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অবস্থান করায় স্থানীয় পরিবেশ, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানসূচির অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরে তার পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে পিতা-মাতার কবর জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। স্থানীয়ভাবে ঈদের দিনটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে বলে জানা গেছে।


