সারাদেশ ডেস্ক
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবারের ঈদ সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) লালমনিরহাট শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।
ঈদের নামাজে অংশ নিতে ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সমবেত হন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত জামাতে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
নামাজ শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানুষ একটি ভিন্ন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিবর্তনের ফলে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কল্যাণে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। লালমনিরহাট জেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, জনগণের আস্থা ও সমর্থন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে কাজ করে। এ কারণে জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদারের বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।
ঈদের জামাত শেষে মন্ত্রী উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন এবং পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঈদগাহ মাঠসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়, যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে পারেন।
এদিকে, ঈদকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন স্থানে সামাজিক ও পারিবারিক মিলনমেলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ঈদের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
সামগ্রিকভাবে, লালমনিরহাটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ উদযাপিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


