সারাদেশ ডেস্ক
শনিবার (২১ মার্চ) রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীর দিকে যাওয়া যাত্রীবাহী বাস এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে আসা একটি মেইল ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হন। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে কুমিল্লার সঙ্গে চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনার পাঁচ ঘণ্টা পর আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। চট্টগ্রাম রেলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রিলিফ ট্রেন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে অল্প সময়ের মধ্যে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার রাতটি পবিত্র ঈদের দিন হওয়ায় মূলত এই মেইল ট্রেনটি চলাচল করছিল। ঈদের পরদিন থেকে রেল শিডিউল অনুযায়ী সব ট্রেন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করবে। যদিও দুর্ঘটনার কারণে কুমিল্লায় রেল যোগাযোগে সাময়িক বিলম্ব হয়েছে, ঢাকা এবং চট্টগ্রাম থেকে ছাড়পত্রপ্রাপ্ত ট্রেনগুলো কুমিল্লায় পৌঁছাতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় নিতে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয় রেলকর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য কুমিল্লা রেলওয়ে থানার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, রেলক্রসিংগুলোতে যানবাহনের অযাচিত প্রবেশ এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। স্থানীয় প্রশাসনও পথচারী এবং যানবাহন পরিচালকদের নিরাপদ আচরণের আহ্বান জানিয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ক্রসিং এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি শুরু করেছে।
রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার জন্য উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে। ট্রেন ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।


