প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ স্বয়ংক্রিয় রেলগেট চালুর : রেল প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ স্বয়ংক্রিয় রেলগেট চালুর : রেল প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশব্যাপী রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা জোরদারে স্বয়ংক্রিয় রেলগেট চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমন তথ্য জানিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। রোববার দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রেলক্রসিংয়ে সাম্প্রতিক ট্রেন-বাস সংঘর্ষের ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেন আসার পূর্বেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেলগেট বন্ধ হয়ে যাবে, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।

রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন রেলক্রসিংয়ে মানবনির্ভর গেট পরিচালনার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ত্রুটি ও অসাবধানতা থেকে দুর্ঘটনা ঘটছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় গেট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ব্যবস্থায় ট্রেন নির্দিষ্ট দূরত্বে পৌঁছালে সিগন্যালের মাধ্যমে রেলগেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেমে যাবে এবং ট্রেন অতিক্রম করার পর পুনরায় খুলে যাবে। পাশাপাশি রেলগেটে দায়িত্বপ্রাপ্ত জনবলও থাকবে, যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, যেসব স্থানে যানবাহনের চাপ বেশি এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি, সেসব গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে পর্যায়ক্রমে আন্ডারপাস বা ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে সড়ক ও রেলপথের সংঘর্ষের সম্ভাবনা কমানো সম্ভব হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

কুমিল্লার সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার বিষয়ে রেল প্রতিমন্ত্রী জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট স্টেশন মাস্টার ও গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুটি এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হবে। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং গুরুতর আহতদের প্রয়োজনে ঢাকায় স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শনিবার (২১ মার্চ) রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী একটি যাত্রীবাহী বাসকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১২ জন নিহত এবং অন্তত ২৪ জন আহত হন। দুর্ঘটনার পর রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশে রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ও আধুনিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বয়ংক্রিয় রেলগেট চালু, উন্নত সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব হবে। বর্তমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে রেলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ