আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান সতর্ক করেছে যে, দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কোনো ধরনের হামলা হলে তারা ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের, যেসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, সেগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে। ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের এক বিবৃতিতে সোমবার (২৩ মার্চ) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রদান করেন। তিনি হুমকি দেন, ইরানকে এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করতে হবে, না হলে দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করা হবে। ট্রাম্পের এ হুমকির পরই ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের এই প্রতিক্রিয়া আসে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা ঘোষণা দিচ্ছি, আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যদি হামলা হয়, ইরান দখলদারদের (ইসরায়েল) এবং এই অঞ্চলের দেশগুলোর যেসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র মার্কিন ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, সেগুলোতে হামলা হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক, শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে, যেগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রয়েছে।”
বিপ্লবী গার্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, “আপনারা আমাদের হাসপাতালে হামলা করেছেন, আমরা করি নি। আপনারা আমাদের দাতব্য কেন্দ্রে হামলা করেছেন, আমরা করি নি। কিন্তু যদি আমাদের বিদ্যুতের ওপর হামলা চালানো হয়, আমরা আপনার বিদ্যুতের ওপরও হামলা চালাব।”
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। শত্রু যে পরিমাণ হুমকি তৈরি করবে, আমরা সেই একই পরিমাণে প্রতিরোধ করব। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সক্ষমতা পুরোপুরি জানে না। তারা আমাদের সক্ষমতা যুদ্ধক্ষেত্রে দেখবে।”
মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উপর হামলার হুমকি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংক্রান্ত এই টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের এই হুমকি আসার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের কূটনৈতিক অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার চাপ বাড়বে।
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোর সংবেদনশীলতা, সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক জানিয়েছেন, সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দামও ওঠানামা করতে পারে।


