জাতীয় ডেস্ক
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের নেহা নদী পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোমবার (২৩ মার্চ) এলজিআরডি মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও কৃষি পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং এর প্রভাবের কারণে দেশের তেল ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে এবং এই প্রভাব মোকাবিলা করতে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
মন্ত্রী সভাস্থলে বলেন, “সামনের সময় সহজ নয়; এটি কঠিন সময়। তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে, জিনিসপত্রের মূল্যও বাড়বে। আমাদের এগুলো সয়ে নিয়ে সামনে এগোতে হবে।” তিনি কর্মসূচির অংশ হিসেবে খাল খনন কার্যক্রমকে উল্লেখযোগ্য ও সৎভাবে সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন।
ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধর্ম ও সমাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ৯০ ভাগ মানুষ ধার্মিক এবং ধর্মকে ব্যবসার মাধ্যমে ব্যবহার করা যায় না। তিনি আরও বলেন, “সৎ ও হালাল রুজির মাধ্যমে জীবনধারণ করা ছাড়া কাউকে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং বেহেশতে পৌঁছানো সম্ভব নয়।”
মন্ত্রী তেল সংকট ও কৃষি সমস্যার প্রেক্ষাপটেও কথা বলেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ কমেছে, কিন্তু তেলের পাম্প ভাঙচুর বা আইনের বাইরে কোনো কার্যক্রম সমীচিন নয়। এমন আচরণ আমরা কঠোরভাবে দমন করব।” কৃষি খাতে, তিনি জানান, “গম ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আলু বৃষ্টির কারণে শুয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের জন্য পূর্বে প্রতিশ্রুত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং তা কার্যকর করা হয়েছে।”
মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে কৃষকদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, “সারা দেশে কয়েক কোটি মহিলাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যা তাদের সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় ২০ হাজার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এবং বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্টরা খাল খনন কার্যক্রমের গুরুত্ব এবং সরকারের সহায়তা প্রকল্পগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন।
খাল খনন প্রকল্পের মাধ্যমে নদী এবং খালের পানির প্রবাহ সুসংহত করা, বৃষ্টিপাতের সময় বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় কৃষি কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হবে। সরকারের এই উদ্যোগ স্থানীয় জলবায়ু ও কৃষি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।


