ইরান-মার্কিন উত্তেজনা বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে সতর্কতা

ইরান-মার্কিন উত্তেজনা বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একটি মন্তব্য করেছেন। হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ পুনঃখোলার সময়সীমা ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে জুলফাগারি বলেন, ট্রাম্পকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি মনোযোগের যোগ্য। ইরানের সামরিক বাহিনী কর্তৃক প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাকে ইংরেজিতে এই বক্তব্য দিতে দেখা যায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খোলার বিষয়ে চাপ প্রদান করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত না করা হয় তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রতিক্রিয়ামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। 이에 পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান জানিয়েছে, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি স্থাপনা এবং ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে তা আন্তর্জাতিক জলপথ এবং অবকাঠামোয় যথোপযুক্ত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপে রূপ নেবে।

বিশ্ববাজারে এ সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। ইরান যুদ্ধে প্রবেশের পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং কিছু দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি প্রদান করলেও শত্রু দেশগুলোর জাহাজ আটকে রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তেল ও গ্যাসের আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং মূল্য বৃদ্ধির দিকে নিয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর প্রধান ফাতিহ বিরোল জানিয়েছেন, ১৯৭০-এর দশকের পর এ ধরনের তেল ও গ্যাস সংকট বিশ্ব কখনোই মুখোমুখি হয়নি। তিনি সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহে যে ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে, তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হওয়ায় এখানে যে কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে সক্ষম। ইরান-মার্কিন উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এর আগে যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্প এই সংকটের পূর্ণতা অনুমান করতে পারেননি। যুদ্ধ শুরু হবার পরই ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যা মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে আলোচনার মুখে থাকা বিষয় হলো, দুই দেশ কীভাবে কূটনৈতিক এবং সামরিক চাপের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা অপরিহার্য হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে নজর রাখছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ