শিক্ষা ডেস্ক
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ‘জুলাই শিক্ষার্থী যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত শহীদ ও আহত/পঙ্গুত্বপ্রাপ্ত আন্দোলনকারীর সন্তানদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ সময় তিনি আগামী পাঁচ বছরের শিক্ষা খাতের উন্নয়ন কৌশল, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদ-পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনাসভায় এই নির্দেশ দেন। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাক্ষেত্রে আধুনিকায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
সভায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণের জট দূর করতে একাধিক শিফটে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দ্রুত সব শিক্ষকের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। জাতীয়করণকৃত ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচি দেশের মানুষের কল্যাণ এবং তাদের শিক্ষাস্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও জুতা (কেডস) বিতরণ করা হবে। এছাড়া, খুব দ্রুততম সময়ে প্রাথমিক পর্যায়ের সব শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস পৌঁছে দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা এবং স্কুল-কলেজের সব শিক্ষকের হাতে ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উপজেলা পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড চালু এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বিতর্ক ক্লাব গঠন করা হবে।
মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উন্নত শিক্ষার পাশাপাশি হাফেজে কোরআনদের সম্মান ও স্বীকৃতি, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ঋণ সুবিধা, এবং বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস প্রদানের বিষয়েও গুরুত্ব দেন। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে আধুনিকায়ন ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।


