জাতীয় ডেস্ক
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের পৃষ্ঠপোষকতায় আগামী ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পঞ্চম আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম। এ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্মেলনে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈশ্বিক কূটনীতি, আঞ্চলিক সহযোগিতা, ভূ-রাজনীতি, উন্নয়ন অংশীদারত্ব এবং বহুপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের মতো বিষয়গুলো এ ফোরামে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কূটনৈতিক প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং নীতিনির্ধারকেরা এতে অংশ নিচ্ছেন।
ফোরামের আয়োজকরা জানিয়েছেন, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক সংলাপের সুযোগ সৃষ্টি করাই এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সফরকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ফোরামের ফাঁকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, শ্রমবাজার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া ফোরামে অংশ নিতে আসা পাকিস্তান, গাম্বিয়া এবং অন্যান্য দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাতের সুযোগ হতে পারে। এসব বৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অংশীদারত্ব নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে অংশগ্রহণের পাশাপাশি এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকার তুলে ধরাই এ সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে বিশ্ব রাজনীতি, সংঘাত নিরসন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই ফোরামের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিজেদের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার ও অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পায়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
ফোরাম শেষে সংশ্লিষ্ট বৈঠক ও আলোচনার ফলাফল বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


