বাংলাদেশ ডেস্ক
হজযাত্রা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে হজ ফ্লাইট-২০২৬-এর উদ্বোধনী কার্যক্রম উপলক্ষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বিমানবন্দরের হজ ক্যাম্প, যাত্রী ব্যবস্থাপনা, ফ্লাইট শিডিউল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হজ ফ্লাইট পরিচালনা ও যাত্রীসেবার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তারা জানান, হজযাত্রীদের নিবন্ধন, ইমিগ্রেশন, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং ফ্লাইট বোর্ডিং প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার লক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি হজ ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, হজযাত্রা একটি ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হওয়ায় এতে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বা শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না।
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত হজ ব্যবস্থাপনাকে একটি জাতীয় ও ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, হজযাত্রাকে সহজ, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। তিনি বিমানবন্দর ও হজ ক্যাম্পে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তিনি যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে নিয়মিত তদারকির ওপরও গুরুত্ব দেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, হজ ফ্লাইট-২০২৬-এর প্রথম ফ্লাইট শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১২টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করবে। এই ফ্লাইটে মোট ৪১৯ জন হজযাত্রী সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। প্রথম ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
এদিকে, হজ ফ্লাইট উদ্বোধনী কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। হজ ক্যাম্পে চিকিৎসা সহায়তা, তথ্য কেন্দ্র, বিশ্রামাগার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা সেবা চালু রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, এবারের হজ ফ্লাইট পরিচালনায় সময়ানুবর্তিতা, নিরাপত্তা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে যাতে যাত্রীদের কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আগামী দিনে হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত উদ্যোগ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবারের হজযাত্রা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় আরও সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন হবে।


