শিক্ষা ও জনবল ডেস্ক
আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে সরকার। পরীক্ষা চলাকালে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, নাশকতা বা প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত অপতৎপরতা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, “কোনো বিশেষ চক্র যদি পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদানে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।”
রাজধানীর চিরচেনা যানজট সমস্যার কথা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এবার বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাথে সমন্বয় করে এবার পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। যানজটের কারণে পরীক্ষার্থীরা যাতে সময়মতো আসনে বসতে পারেন, সেজন্য সকাল ৮টা থেকেই কেন্দ্রগুলো উন্মুক্ত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে। এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপমুক্ত হয়ে যথাসময়ে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী জানান, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কেন্দ্রগুলোতে যাতে লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সেশন জট এড়ানো সম্ভব হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কোচিং সেন্টার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্বীকার করেন যে, বর্তমান সরকারের কাছে কোচিং মনিটরিংয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো রেগুলেশন বা নীতিমালা নেই। এছাড়া সারাদেশে কোথায় কোথায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোচিং পরিচালিত হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্যও মন্ত্রণালয়ের কাছে সংরক্ষিত নেই। তবে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। এই আইনটি যুগোপযোগী করা হলে পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধ দমনে সরকারের আইনি ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
শিক্ষার গুণগত মান ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আ ন ম এহছানুল হক মিলন দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি দুর্নীতিতে লিপ্ত হন, তবে তাকে এক মুহূর্তও ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উদাহরণ হিসেবে তিনি সম্প্রতি একজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরীক্ষার আয়োজন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “এই পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন ও সময় নির্ধারণের প্রাথমিক প্রক্রিয়াগুলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান সরকার অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে সেই পরীক্ষা পরিচালনার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। কোনো বিশেষ মহলের অপপ্রচারে কান দেওয়ার প্রয়োজন নেই।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষার রুটিন নিয়ে চলা বিভ্রান্তি সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি নিশ্চিত করেন যে, পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই সব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষাবর্ষের স্বাভাবিক ধারা বজায় রাখতে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাক্রম পরিচালনার যে ঐতিহ্য রয়েছে, তা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন মন্ত্রী। তিনি অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সরকারের এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। সবশেষে তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আনন্দমুখর ও ভীতিহীন শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।


