রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীতদের মধ্যে বড় একটি অংশই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেত্রী। বিএনপির চূড়ান্ত করা প্রার্থীর তালিকায় ছাত্রদলের এই উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দলটির তৃণমূল ও সাবেক নেতৃবৃন্দ। সংগঠনটির সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই দিনব্যাপী দীর্ঘ সাক্ষাৎকার গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষে এই মনোনয়ন নিশ্চিত করা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।
সংরক্ষিত নারী আসনে ছাত্রদলের কর্মীদের এমন ব্যাপক উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে শেখ তানভীর বারী হামিম সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। যারা ছাত্রদলের নেতৃত্ব বা বর্তমান অবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন, তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রদল নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। মনোনীত নারী প্রার্থীদের মধ্যে বড় একটি অংশই এই সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান কর্মী। এটি সংগঠনের শক্তি এবং ত্যাগেরই প্রতিফলন। নবনির্বাচিত ও মনোনীতদের প্রতি অভিনন্দন জানিয়ে তিনি সংগঠনের ধারাবাহিক সাফল্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রভাব
বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে সংরক্ষিত নারী আসনগুলো দলীয় আনুগত্য এবং দীর্ঘদিনের রাজপথের সক্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে বণ্টন করা হয়। ছাত্রদলের নারী নেত্রীদের এই বড় মাপের অংশগ্রহণ দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নবীন ও শিক্ষিত নারী নেত্রীদের জাতীয় সংসদে অন্তর্ভুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বিএনপির সংসদীয় কার্যক্রমে গতিশীলতা আনবে। বিশেষ করে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকা নেত্রীদের মূল্যায়ন করার ফলে দলের তৃণমূল পর্যায়ে উৎসাহ সঞ্চার হবে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত তালিকা
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে দলটি কঠোর গোপনীয়তা এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে। গত দুই দিনে শতাধিক প্রার্থীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। সেখানে প্রার্থীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, দলের সংকটে ভূমিকা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ৩৬ জনের চূড়ান্ত তালিকায় অভিজ্ঞ সাবেক সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি একঝাঁক নতুন মুখ দেখা যাচ্ছে, যাদের অধিকাংশই ছাত্র রাজনীতির পর্যায় থেকে উঠে এসেছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় সংসদে শক্তিশালী বিরোধী কণ্ঠস্বর তৈরিতে তরুণ এবং দক্ষ নারী নেতৃত্বের বিকল্প নেই। ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীদের এই মনোনয়ন দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের পথকেও প্রশস্ত করছে। শেখ তানভীর বারী হামিমের বক্তব্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের উল্লেখযোগ্য অংশ ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের দখলে থাকা সংগঠনের সাংগঠনিক সক্ষমতারই পরিচয় দেয়।
চূড়ান্ত তালিকায় থাকা প্রার্থীদের নাম খুব শীঘ্রই গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, এবারের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপি প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে মাঠের নেত্রীদের প্রাধান্য দিয়ে একটি যুগোপযোগী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি একদিকে যেমন ছাত্র রাজনীতিকে উৎসাহিত করবে, অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।


