জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদ ও রাজনীতি ডেস্ক

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার সংসদীয় কার্যালয়ে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, সংসদীয় কার্যকারিতা এবং জুলাই সনদসহ রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সংস্থাটির এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক লিনা রিক্কিলা তামাং। প্রতিনিধিদলের অপর সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির ‘কনস্টিটিউশনাল গভর্নেন্স অ্যান্ড রুল অব ল’ প্রোগ্রামের প্রধান সুমিত বিসারিয়া। বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।

বৈঠক সূত্র জানায়, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন। বিশেষ করে জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা কীভাবে আরও গতিশীল করা যায় এবং জবাবদিহিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে কোন ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সুরক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংহতি জোরদার করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আলোচনাকালে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তার দলের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে জনমানুষের অধিকার রক্ষা এবং সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ও ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে ‘জুলাই চার্টার’ বা জুলাই সনদের প্রাসঙ্গিকতা এবং গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এবং একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিতে তার দল অঙ্গীকারবদ্ধ।

ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা হিসেবে বিশ্বজুড়ে টেকসই গণতন্ত্রায়নের লক্ষ্যে কাজ করে। বাংলাদেশে সংস্থাটির এই সফর এবং বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বৈঠকটিকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। বিশেষ করে সংবিধানের শাসন ও আইনের শাসন (Rule of Law) নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা বাংলাদেশের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে।

বৈঠকে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপটে যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দাবি উঠেছে, তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বিদেশি প্রতিনিধিদের অবহিত করেন। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করাই বর্তমান সময়ের প্রধান দাবি।

সাক্ষাৎ শেষে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জানিয়েছে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে মতবিনিময় বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থা ও নির্বাচনী ব্যবস্থার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক সংস্থাগুলোর এই তৎপরতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বহির্বিশ্বের সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় সংস্কার আনতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এই সংলাপ দলটির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী ভাবনার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ