আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের দেহাংশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। নিহত শিক্ষার্থীর নাম জামিল লিমন (২৭)। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অন্য নিখোঁজ শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির (২৭) সন্ধানে এখনো তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল থেকে জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের ১০ দিন পর শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে প্রায় এক মাইল দূরে অবস্থিত লেক ফরেস্ট আবাসিক এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালায় পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর নিকটবর্তী স্থান থেকে মানবদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়। ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, উদ্ধারকৃত অংশটি জামিল লিমনের। লিমনের মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে গোয়েন্দারা।
অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই আবাসিক এলাকার প্রবেশ ও বাহির পথগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সোয়াট টিমের সহযোগিতায় পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে সন্দেহভাজন হিশাম আবুগারবিয়েহকে (২৬) আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে শেরিফ কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস বিভাগও এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, জামিল লিমনকে গত ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত তার নিজ বাসায় সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন। অন্যদিকে, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টিকে ওই দিনই সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ন্যাচারাল অ্যান্ড ইনভাইরনমেন্টাল সায়েন্সেস’ ভবনের সামনে শেষবার দেখা গিয়েছিল। একই দিনে এবং প্রায় একই সময়ে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি শুরু থেকেই স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর কাড়ে।
লেক ফরেস্ট কমিউনিটি, যেখানে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে, সেটি একটি ‘ডিড-রেস্ট্রিকটেড’ বা বিশেষ শর্তাধীন এলাকা। সাধারণত এমন এলাকায় হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কড়া নজরদারি থাকে এবং বাসিন্দাদের গতিবিধি ও কর্মকাণ্ড নির্দিষ্ট বিধিনিষেধের আওতায় থাকে। এমন একটি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হত্যাকাণ্ডের আলামত মেলায় স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে নাহিদা বৃষ্টির কোনো হদিস না মেলায় তার পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। ইউএসএফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধানে পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষারত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। ফ্লোরিডার এই মর্মান্তিক ঘটনাটি বিদেশের মাটিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে পিএইচডি গবেষণার মতো দীর্ঘমেয়াদী একাডেমিক কার্যক্রমে নিয়োজিত শিক্ষার্থীদের আবাসন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি এখন কমিউনিটির প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আইনি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে তারা সব ধরনের কূটনৈতিক ও আইনি সহায়তা প্রদান করবে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজন হিশামের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


