বিনোদন ডেস্ক
বিশ্বসংগীতের কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের জীবননির্ভর চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্যের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। অ্যান্টোইন ফুকা পরিচালিত এই সিনেমাটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই বিশ্বজুড়ে রেকর্ড পরিমাণ আয় করে জীবনীমূলক চলচ্চিত্রের (বায়োপিক) ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করেছে। লয়ন্সগেট, ইউনিভার্সাল ও মাইকেল জ্যাকসন এস্টেটের ২০০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের এই যৌথ প্রযোজনাটি মুক্তির প্রথম তিন দিনেই বিশ্বব্যাপী ২১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে সিনেমাটি ৯৭ মিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ১২১ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে সর্বকালের সেরা ওপেনিংয়ের রেকর্ড গড়েছে। এর আগে বায়োপিক ক্যাটাগরিতে ২০১৫ সালের ‘স্ট্রেট আউটা কম্পটন’ (৬০ মিলিয়ন ডলার) এবং ২০১৮ সালের ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র (৫১ মিলিয়ন ডলার) আয়ের রেকর্ড ছিল শীর্ষে। ‘মাইকেল’ সেই পুরনো রেকর্ডগুলোকে বিশাল ব্যবধানে পেছনে ফেলে দিয়েছে। ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে আয়ের দিক থেকে এটি এখন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
পেশাদার চলচ্চিত্র সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও সাধারণ দর্শকদের মাঝে সিনেমাটি ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। পর্যালোচনামূলক ওয়েবসাইট ‘রটেন টমেটোজ’-এ সমালোচকদের ইতিবাচক রেটিং মাত্র ৩৮ শতাংশ হলেও দর্শক জরিপ সংস্থা ‘সিনেমাস্কোর’-এ এটি ‘এ মাইনাস’ গ্রেড অর্জন করেছে। দর্শক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, টিকিট ক্রেতাদের একটি বড় অংশ নারী এবং ২৫ বছরের বেশি বয়সী সংগীতপ্রেমী।
সিনেমাটিতে মাইকেল জ্যাকসনের শৈশব থেকে বিশ্বখ্যাত তারকা হয়ে ওঠার চড়াই-উতরাই চিত্রিত হয়েছে। পপ সম্রাটের আইকনিক চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন তার আপন ভাগ্নে জাফর জ্যাকসন। জাফর জ্যাকসনের অভিনয় এবং নাচের দক্ষতা দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। তবে চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের মতে, জ্যাকসনের জীবনের পরবর্তী সময়ের বিতর্কিত বিষয়গুলো, বিশেষ করে শিশু নির্যাতনের অভিযোগগুলো চিত্রনাট্যে সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। আইনি জটিলতা এড়াতে কাহিনি মূলত ১৯৮৮ সালের ‘ব্যাড’ ওয়ার্ল্ড ট্যুর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
শিল্প বিশ্লেষকদের ধারণা, নেতিবাচক সমালোচনা সত্ত্বেও মাইকেল জ্যাকসনের প্রতি বৈশ্বিক ভক্তদের আবেগের কারণে সিনেমাটি দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসায়িক সাফল্য ধরে রাখবে। পরিবেশক সংস্থা লায়ন্সগেট এই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে জ্যাকসনের জীবন নিয়ে পরবর্তী ধাপে আরও নতুন প্রকল্পের কথা বিবেচনা করছে। সংগীতাঙ্গনের সর্বকালের অন্যতম প্রভাবশালী এই ব্যক্তিত্বের জীবনকে রূপালি পর্দায় নতুনভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বৈশ্বিক এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি নতুন এক বাণিজ্যিক ধারার সূচনা দেখছে। এই সাফল্য ভবিষ্যতে অন্যান্য বিশ্বখ্যাত সংগীতজ্ঞদের বায়োপিক নির্মাণে প্রযোজনা সংস্থাগুলোকে আরও উৎসাহিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


