অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে মাহমুদুল হাসান (২৬) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্তকৃত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরের দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার চার দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, প্রথম দফার রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তের স্বার্থে এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে আসামি আফজাল নাছেরকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন আসামির দুই দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। গত ৩০ মার্চ রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেফতার করে।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে উত্তরা পূর্ব থানার আজমপুর এলাকায় একটি মিছিলে হামলা ও নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় মাহমুদুল হাসান গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর উত্তরা পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষের ওপর বলপ্রয়োগ এবং সরাসরি গুলিবর্ষণের নির্দেশের পেছনে কাদের ইন্ধন ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সংগৃহীত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্য পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের স্পর্শকাতর মামলায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অপরাধীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম ও তদন্তের ফলাফল জুলাই আন্দোলনের সময় হওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে পুলিশ ঘটনার সময়কার ডিজিটাল প্রমাণাদি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে, যাতে ঘটনার প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচিত হয়। মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে রিমান্ড শেষে আসামিকে পুনরায় আদালতে উপস্থাপন করা হবে।


