রাউজানে একদিনের ব্যবধানে ফের যুবককে গুলি করে হত্যা

রাউজানে একদিনের ব্যবধানে ফের যুবককে গুলি করে হত্যা

অপরাধ ডেস্ক

চট্টগ্রামের রাউজানে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে একদিনের ব্যবধানে আবারো গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ শিকারে পরিণত হওয়া নাসির উদ্দিন (৫০) পেশায় একজন যুবদল কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি থেকে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিবাগত রাতে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে গুরুতর আহতাবস্থায় নাসির উদ্দিনকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে তাকে ২ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তরের পরপরই কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নাসির ওই এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে এবং এক কন্যা সন্তানের জনক।

নিহতের পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। নিহতের ভাতিজা মো. সম্রাট অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরেই প্রতিপক্ষরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় সক্রিয়তার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই টার্গেটে ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাউজান উপজেলায় গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে উপজেলায় এ নিয়ে অন্তত ২৩ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন। চাঞ্চল্যকর তথ্য এই যে, নিহতদের একটি বড় অংশই বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সাথে জড়িত। ধারাবাহিক এই সহিংসতা স্থানীয় জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

এর আগে গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতেও রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলিখীল খামারটিলা এলাকায় বাবলু নামে এক যুবককে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। একদিনের ব্যবধানে একই কায়দায় দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, জঙ্গল রাউজান ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে অপরাধী চক্রের তৎপরতা বৃদ্ধি পেলেও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, রাউজানের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নাসির উদ্দিনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে এলাকায় অভিযান চলছে এবং মামলার প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

রাউজানে একের পর এক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক সহিংসতা কেবল স্থানীয় রাজনীতিকেই উত্তপ্ত করছে না, বরং তা জাতীয় পর্যায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতিতেও উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই মৃত্যু মিছিল থামাতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধী যে দলেরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে জেলা পুলিশ।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ