জাতীয় ডেস্ক
যশোরের শার্শা উপজেলায় ঐতিহাসিক উলসী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার দুপুরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ‘গণভোট’ ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
প্রধানমন্ত্রী ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দেশের মানুষ তাদের ভাগ্য নিয়ে আর কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবে না। অতীতে যেভাবে জনতুষ্টির তোয়াক্কা না করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে, ভবিষ্যতে তেমন পরিস্থিতি তৈরি হলে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তার জবাব দেবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ সরকার ধাপে ধাপে এবং সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন। তিনি জানান, নারী ও কৃষকদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু এবং তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে। এসব উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডে যারা ব্যাঘাত ঘটাতে চায়, তাদের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিঙ্গাপুরসহ অনেক দেশ গত ৫০ বছরে প্রভূত উন্নতি করলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে দেশ গড়ার কাজে লাগানোর মাধ্যমে এই ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, ১৭৩ দিনের হরতালের মতো ধ্বংসাত্মক রাজনীতি দেশের অর্থনীতির অপূরণীয় ক্ষতি করেছে এবং সেই অপশক্তির পুনরুত্থান রোধ করা জরুরি।
শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের নতুন লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম খালেদা জিয়ার গৃহীত পদক্ষেপসমূহকে আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। বর্তমানে স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং মেধাবীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
শার্শার উলসী খালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই খালটি খনন করেছিলেন। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে খালটি ভরাট ও বেদখল হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষি ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুনঃখনন কাজের ফলে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত হবে, যা ২০ হাজার কৃষককে সরাসরি উপকৃত করবে এবং অতিরিক্ত ১৪০০ টন খাদ্যশস্য উৎপাদনে সহায়ক হবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে খালের দুই পাড়ে ৩ হাজার বৃক্ষরোপণ এবং স্থানীয় নারীদের জন্য হাঁস পালনের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
এর আগে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী খাল খননস্থলে ফলক উন্মোচন এবং মোনাজাত করেন। পরে তিনি নিজ হাতে মাটি কেটে পুনঃখনন কাজের সূচনা করেন এবং বৃক্ষরোপণ করেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য এবং কোনো অপশক্তির কাছে এই ম্যান্ডেট নসাৎ হতে দেওয়া হবে না।


