ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান: জেলায় ৪ অসহায় ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা ও উপকরণ প্রদান

ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান: জেলায় ৪ অসহায় ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা ও উপকরণ প্রদান

জাতীয় ও প্রশাসন ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করা এবং সমাজ থেকে ভিক্ষাবৃত্তি নির্মূলের লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত বিশেষ কর্মসূচির আওতায় চারজন অসহায় ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসন ও শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এবং ‘ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি’র আওতায় এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব উপকরণ উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিতরণকৃত এসব উপকরণ এবং নগদ অর্থ সহায়তার মূল উদ্দেশ্য হলো অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষায়িত ট্রাই-সাইকেল তাদের চলাচলের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ ব্যবসার সুযোগ করে দেবে, যা তাদের একটি সম্মানজনক জীবিকা অর্জনে সহায়ক হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জেলা গঠনের জন্য সমাজ থেকে ভিক্ষাবৃত্তি দূর করা অপরিহার্য। এটি কেবল সরকারি প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়, বরং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি স্বনির্ভর জেলা গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য। আজকের এই উদ্যোগ সেই বৃহত্তর লক্ষ্যেরই একটি অংশ।”

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শাহ আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মহিবুল্লাহ্ হক। বক্তারা সরকারের এই মানবিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং উপকারভোগীদের এসব সম্পদের সঠিক ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা বিভাগের এই যৌথ উদ্যোগে মোট ২ লাখ ৭ হাজার টাকার বিভিন্ন সহায়ক উপকরণ ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। উপকারভোগীদের মধ্যে শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ছিল পণ্য বিক্রির উপযোগী আধুনিক ট্রাই-সাইকেল। এছাড়া নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে পিঠা তৈরির আধুনিক সরঞ্জাম এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি হিসেবে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচি বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাধারণত সাময়িক দান-খয়রাত ভিক্ষাবৃত্তিকে স্থায়ী রূপ দিলেও, কারিগরি সহায়তা এবং পুঁজি সরবরাহের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলে তা দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য নিরসনে ভূমিকা রাখে। আজকের এই সহায়তা কার্যক্রম জেলার ভিক্ষুক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের নিবিড় তদারকি এবং সঠিক ব্যক্তিকে সম্পদ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে জেলাটি দ্রুতই ভিক্ষাবৃত্তিমুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণ ও তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করারও আশ্বাস প্রদান করা হয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ