যশোরে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

যশোরে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই হাসপাতালটি অত্র অঞ্চলের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে বেসরকারি খাতকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও সেবা সহজলভ্য করা সম্ভব হবে।

বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কেবল নিরাময়মূলক চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শুধু হাসপাতাল নির্মাণ বা উন্নত চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশে রোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই সমাধান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট নিরসনে এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সারা দেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ বিষয় হলো, এই নিয়োগপ্রাপ্তদের ৮০ শতাংশই হবেন নারী। এই স্বাস্থ্যকর্মীরা তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবেন। বিশেষ করে পরিবারের নারী সদস্যদের খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখা এবং সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে কীভাবে রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব, সে বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা তৈরিই হবে এই বিশাল বাহিনীর প্রধান কাজ।

যশোরে ৫০০ শয্যার এই নতুন হাসপাতালটি চালু হলে যশোরসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সাধারণ মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী বা বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পাবে। স্থানীয় পর্যায়ে জটিল রোগের অস্ত্রোপচার ও উন্নত রোগ নির্ণয় সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে মানুষের দুর্ভোগ ও ব্যয় উভয়ই কমবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী শার্শার উলাশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই প্রকল্পটি ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর তিনি যশোর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছান এবং ইলেকট্রনিক বোতাম টিপে হাসপাতাল নির্মাণকাজের ফলক উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সরকারের এই পদক্ষেপকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ