জাতীয় ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার জনবিচ্ছিন্ন কোনো রাজনৈতিক কৌশলে বিশ্বাসী নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক কাজের মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট করেন, দেশের মানুষের সেবা ও উন্নয়নের মাধ্যমেই সরকার জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে চায়।
সোমবার বিকেলে যশোরের ঈদগাহ প্রাঙ্গণে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্লোগানকে বর্তমান সরকারের মূলমন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেন এবং দেশ গড়ার কাজে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ঐক্য আহ্বান করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে একটি বিশেষ মহল এই জনরায়কে মেনে নিতে পারছে না এবং নানাবিধ বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপতৎপরতা চালাচ্ছে। বিশেষ করে যারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেছে বা নেপথ্যে বৈঠক করছে, তারাই এখন সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণায় লিপ্ত। ৫ আগস্টের বিপ্লবের পর জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বিএনপি অনড় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যারা মানুষ হত্যা করেছে তাদের বিচার হতেই হবে। অথচ আমরা দেখেছি কেউ কেউ সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করার কথা বলেছিলেন। আজ তারাই পর্দার আড়ালে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সাথে আঁতাত করছেন।”
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মা-বোনদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান কাজ। বিশেষ করে হামের টিকার অভাব দূর করে দেশের প্রতিটি শিশুর টিকাদান কর্মসূচি নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে জেলা পর্যায় পর্যন্ত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করাকে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষক যাতে সঠিক সময়ে সার, বীজ ও অন্যান্য সহায়তা পায়, তার জন্য সরকার একটি টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এছাড়া শিক্ষার আলো দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তৃণমূলের মায়েদের রান্নার কষ্ট ও জ্বালানি সমস্যা লাঘবে প্রধানমন্ত্রী এক বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সরকার ইতিপূর্বে প্রবর্তিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর পাশাপাশি এখন থেকে যোগ্য পরিবারগুলোকে ‘এলপিজি কার্ড’ প্রদান করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে মায়েদের রান্নার জ্বালানি নিশ্চিত করা হবে, যাতে গৃহস্থালি কাজে তাদের দুশ্চিন্তা লাঘব হয় এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই সেবা বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বক্তারা সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জনগণকে সম্পৃক্ত হওয়ার এবং যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। জনসভাকে কেন্দ্র করে যশোরের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়।


