৩৬ হাজার ৯৯৬ হজযাত্রী সৌদি আরবে, মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের

৩৬ হাজার ৯৯৬ হজযাত্রী সৌদি আরবে, মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের

ধর্ম ও হজ ডেস্ক

বাংলাদেশ থেকে চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনে এখন পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৯৯৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ তিনটি পৃথক এয়ারলাইন্সের ৯২টি ফ্লাইটে তারা সৌদি আরবের পবিত্র ভূমিতে অবতরণ করেন। বাংলাদেশ হজ অফিসের আইটি হেল্প ডেস্কের প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিন থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আইটি হেল্প ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব পৌঁছানো মোট হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ২৮৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৩ হাজার ৭১২ জন যাত্রী রয়েছেন। ফ্লাইটগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৪০টি, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স ৩৪টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ১৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। গত ১৮ এপ্রিল প্রথম ফ্লাইটের মাধ্যমে এ বছরের হজ যাত্রার সূচনা হয়েছিল।

পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থানকালে এখন পর্যন্ত ৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার আবদুল হাই (৬১) নামে একজন হজযাত্রী মারা গেছেন। হেল্প ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, মৃত ছয়জনই পুরুষ। সাধারণত দীর্ঘ আকাশপথ ভ্রমণ, আবহাওয়া পরিবর্তন এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে প্রতিবছরই হজের মৌসুমে কিছু হজযাত্রীর মৃত্যু হয়। মৃতদের জানাজা ও দাফন স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী সৌদি আরবে সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

এ বছর সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় হজের জন্য নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেই হিসেবে বর্তমানে হজ যাত্রার একটি বড় অংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ২১ মে পর্যন্ত সৌদি আরবে পৌঁছানোর এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

হজ ক্যালেন্ডার ও বিমান সূচি অনুযায়ী, আগামী ২১ মে হজের বহির্গামী সব ফ্লাইট পরিচালনা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর পবিত্র হজের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সৌদি আরবে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে থেকে হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। ফিরতি এই যাত্রাপথ ৩০ জুন পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি এবং এয়ারলাইন্সগুলো সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং হজ অফিস নিয়মিতভাবে জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় অবস্থানরত হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি হজযাত্রীর জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুবিধা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম সক্রিয় রয়েছে। মক্কায় অবস্থিত হেল্প ডেস্ক ও কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে যাতে হজযাত্রীরা কোনো ভোগান্তিতে না পড়েন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর তীব্র গরমের মধ্যে হজ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মিনা ও আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের সময় পানিশূন্যতা রোধে প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ হজ অফিসের প্রতিনিধিরা নিয়মিতভাবে সৌদি আরবের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন যাতে পরিবহন ও আবাসন সংক্রান্ত কোনো সংকট সৃষ্টি না হয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাকি হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ফ্লাইট শিডিউল কঠোরভাবে তদারকি করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ