জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে এখন পর্যন্ত ৩৯ হাজার ৩৯৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্কের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মোট ৯৮টি ফ্লাইটের মাধ্যমে তারা দেশটিতে পৌঁছান। তবে হজ কার্যক্রম চলাকালীন এখন পর্যন্ত ৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
চলতি বছর পবিত্র হজ উপলক্ষে গত ১৮ এপ্রিল ঢাকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়। প্রাপ্ত তথ্যমতে, সৌদি আরব পৌঁছানো মোট হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৩১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৩৫ হাজার ৩২৩ জন। পরিবহন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনটি এয়ারলাইনস নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৪৪টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৩৬টি এবং ফ্লাইনাস ১৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর এখন পর্যন্ত মারা যাওয়া ৭ জন হজযাত্রীই পুরুষ। এদের মধ্যে ৫ জন মক্কায় এবং ২ জন মদিনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, রংপুরের কোতোয়ালির বাসিন্দা শামসুল আলম (৬৩) গত মঙ্গলবার মদিনায় মারা যান। তিনি সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ছিলেন এবং এটিই এই বিভাগে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। এর আগে ২৭ এপ্রিল জামালপুরের মো. আব্দুল হাই ও শেরপুরের মো. আবদুল্লাহ আল মামুন মারা যান। এছাড়া ২৬ থেকে ২১ এপ্রিলের মধ্যে পর্যায়ক্রমে মারা গেছেন দিনাজপুরের মো. খলিলুর রহমান, ময়মনসিংহের মো. সেরাজুল হক, টাঙ্গাইলের মো. আবুল কাশেম এবং জয়পুরহাটের মো. নইম উদ্দীন মণ্ডল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃতদের বেশিরভাগই স্বাভাবিক কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন।
বাংলাদেশে এবার হজের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ও যাত্রা নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়েছে। আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাকি হজযাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এয়ারলাইনস ও ধর্ম মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সৌদি আরবে অবস্থানরত হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ হজ মিশন। মক্কা ও মদিনায় চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত মেডিকেল টিম নিয়োজিত রাখা হয়েছে।
হজযাত্রীদের এই বৃহৎ সংখ্যার যাতায়াত ও অবস্থান ব্যবস্থাপনা একটি জটিল প্রক্রিয়া। তবে এ বছর ডিজিটালাইজেশন এবং আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করায় হজযাত্রী ও তাদের স্বজনদের জন্য বিভ্রান্তি অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নিয়মিত বুলেটিনের মাধ্যমে ফ্লাইটের সংখ্যা, মৃত্যুর পরিসংখ্যান ও সামগ্রিক পরিস্থিতি দেশবাসীকে অবহিত করছে। আগামী দিনগুলোতে অবশিষ্ট হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন সৌদি যাত্রা এবং সেখানে অবস্থানকালীন যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।


