আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে বর্বরোচিত হামলা ও ৫১ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত ব্রেন্টন ট্যারান্টের সাজা বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির আপিল আদালত। ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ আল নূর ও লিনউড মসজিদে চালানো ওই ভয়াবহ হামলায় সংশ্লিষ্ট অপরাধের দায় স্বীকারের পর আদালত তাকে প্যারোলহীন আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেছিলেন। সাম্প্রতিক শুনানিতে আসামি তার সাজা চ্যালেঞ্জ করলেও আদালত তা ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দেন।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৩৫ বছর বয়সী ট্যারান্ট সাজা বাতিলের আবেদন দাখিল করেন। তার প্রধান যুক্তি ছিল, কারাগারে থাকাকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং তীব্র মানসিক চাপের মুখে তিনি দোষ স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন। আসামিপক্ষের দাবি ছিল, তৎকালীন পরিস্থিতিতে তার মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল না, যা তাকে স্বীকারোক্তি দিতে প্রভাবিত করেছিল। তবে এক সপ্তাহব্যাপী শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার আদালত এই দাবি প্রত্যাখান করেন।
নিউজিল্যান্ড আপিল আদালতের তিন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সর্বসম্মত রায়ে জানান, ট্যারান্টের অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য ও প্রমাণসমূহ প্রশ্নাতীত এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে। বিচারকরা তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, দোষ স্বীকার করার ক্ষেত্রে আসামিকে কোনো ধরনের আইনবহির্ভূত চাপ বা জবরদস্তি করা হয়নি। আসামির দাবিগুলো অসংগতিপূর্ণ এবং অন্য কোনো সাক্ষ্য বা প্রমাণের মাধ্যমে তা সমর্থিত নয়। আদালত স্পষ্টভাবে জানান, আত্মপক্ষ সমর্থনে ট্যারান্ট কোনো আইনসম্মত বা যৌক্তিক ভিত্তি প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের সেই হামলায় ট্যারান্ট নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৫১ জন মুসল্লিকে হত্যা করেন এবং ৪০ জনকে হত্যার চেষ্টা চালান। হামলার একটি অংশ তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেছিলেন, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিউজিল্যান্ড সরকার তাদের দেশের অস্ত্র আইনে আমূল পরিবর্তন এনে আধা-স্বয়ংক্রীয় আগ্নেয়াস্ত্র নিষিদ্ধসহ কঠোর বিধান কার্যকর করে।
আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। আল নূর মসজিদে ভাই হারানো আয়া আল-উমারি জানান, আদালতের সিদ্ধান্তে ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার অবসান ঘটল এবং অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি ভোগ করার বিষয়টি সুনিশ্চিত হলো। নিউজিল্যান্ডের বিচারিক ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে, কারণ দেশটিতে এর আগে কাউকে প্যারোলহীন আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি। আদালত তার রায়ে কঠোরভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এ ধরনের জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে ক্ষমার কোনো সুযোগ নেই।


