শিক্ষা ডেস্ক
সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬’। মে ও জুন মাসব্যাপী ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ ও কাবিংসহ বিভিন্ন ইভেন্টে ধাপে ধাপে এই জাতীয় আয়োজন সম্পন্ন হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সম্প্রতি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার বিস্তারিত সূচি ও নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।
অংশগ্রহণের যোগ্যতা ও পর্যায়
নীতিমালা অনুযায়ী, শুধুমাত্র তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক গ্রুপে ইভেন্টগুলো পরিচালিত হবে। প্রতিযোগিতাটি মোট পাঁচটি স্তরে অনুষ্ঠিত হবে: বিদ্যালয় পর্যায়, ইউনিয়ন পর্যায়, উপজেলা পর্যায়, জেলা পর্যায় এবং সর্বশেষ বিভাগীয় পর্যায়।
শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিদ্যালয়কে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করে আগামী ১৯ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিযোগীদের তালিকা প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে।
তৃণমূল থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত আয়োজনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার ঘোষণা করা হয়েছে:
ইউনিয়ন পর্যায়: ১৯ থেকে ২০ মে।
উপজেলা পর্যায়: ২২ থেকে ২৩ মে।
জেলা পর্যায়: ৬ থেকে ৭ জুন।
বিভাগীয় পর্যায়: ৮ থেকে ৯ জুন।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে ইভেন্টগুলোকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ক্রীড়া ইভেন্টের মধ্যে রয়েছে ১০০ মিটার দৌড়, দীর্ঘ লাফ, উচ্চ লাফ, ভারসাম্য দৌড় ও অংক দৌড়। সাংস্কৃতিক বিভাগে কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, নৃত্য, গল্প বলা, লোকগীতি, দেশাত্মবোধক গান, রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীত, হামদ-নাত, একক অভিনয় এবং উপস্থিত বক্তৃতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষামূলক কার্যক্রমে গতি আনতে বিষয়ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন রাখা হয়েছে। এতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান (দৈনন্দিন বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, আইসিটি ও সমসাময়িক ঘটনাবলি) থেকে প্রশ্ন করা হবে। এছাড়া আন্তঃউপজেলা পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিশেষ সংস্থান রাখা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক পরিপক্কতা বিবেচনায় রেখে অস্পর্শকাতর বিষয় নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান নীতিমালা-২০২৬ অনুসরণ করে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রতিটি স্তরের জন্য সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ করেছে সরকার। ব্যয় বিভাজন অনুযায়ী, বিদ্যালয় পর্যায়ে ৮ হাজার টাকা, ইউনিয়ন পর্যায়ে ৫ হাজার ২০০ টাকা, উপজেলা পর্যায়ে ২৮ হাজার ২০০ টাকা, জেলা পর্যায়ে ৭১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিভাগীয় পর্যায়ের আয়োজনের জন্য ১ লাখ ৩০ হাজার ৬২৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর দেশব্যাপী এমন বৃহৎ পরিসরে প্রাথমিক স্তরের প্রতিযোগিতার আয়োজন তৃণমূল পর্যায়ে শিশুদের মেধা অন্বেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। করোনাকালীন এবং পরবর্তী নানা সংকটে পিছিয়ে পড়া পাঠবহির্ভূত সহশিক্ষা কার্যক্রম এই উৎসবের মাধ্যমে পুনরায় গতিশীল হবে। বিশেষ করে কাবিং এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো ইভেন্টগুলো শিশুদের আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বদানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কঠোর তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


