বিনোদন ডেস্ক
দীর্ঘ বিরতির পর বড় পর্দায় ফিরছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী। আগামী ১৫ মে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’। প্রবাস জীবনের রূঢ় বাস্তবতা এবং চুক্তিভিত্তিক বিয়ের নেপথ্যে থাকা নারীদের জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মৌসুমী। তার বিপরীতে রয়েছেন অভিনেতা ও নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর, যিনি নিজেই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমাটির চিত্রধারণ শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ওয়েব সিরিজ হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে গল্প ও নির্মাণের ব্যাপকতার কারণে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে রূপান্তর করা হয়। চলতি বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে এটি বিনা কর্তনে ছাড়পত্র লাভ করে।
‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর মূল উপজীব্য বাংলাদেশি নারীদের প্রবাস জীবনের প্রতিকূলতা। উন্নত জীবনের আশায় অনেক নারী বিদেশে পাড়ি জমিয়ে বৈধতা পাওয়ার লক্ষ্যে ‘চুক্তিভিত্তিক বিবাহ’ বা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এ লিপ্ত হন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাময়িক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। বিশেষ করে বিবাহিত নারীরা যখন স্বামীদের দেশে রেখে এ ধরনের চুক্তিতে আবদ্ধ হন, তখন দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরে এবং প্রবাসে তারা নানা ধরনের শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হন।
চিত্রনায়িকা মৌসুমী এই চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, সিনেমাটি মূলত প্রবাসে টিকে থাকার লড়াই এবং নারীদের তিল তিল করে সংসার সাজানোর পেছনের অদৃশ্য যন্ত্রণার চিত্র তুলে ধরেছে। নির্মাতার ভাষ্যমতে, এটি একটি সামাজিক সচেতনতামূলক কাজ যেখানে নারীর মর্যাদা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। থ্রিলার ও নাটকীয়তার আবহে গল্পটি আবর্তিত হলেও এর পরতে পরতে রয়েছে মানবিক আবেদন।
২০২৪ সালে ‘সোনার চর’ মুক্তির পর এটিই মৌসুমীর প্রথম বড় পর্দার কাজ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এই অভিনেত্রী সেখানে থেকেই কাজের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর জানান, সিনেমাটি বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর মাধ্যমে দুই বছর পর বড় পর্দায় মৌসুমীর প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি প্রবাস জীবনের এক সংবেদনশীল অধ্যায় সাধারণ দর্শকদের সামনে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। সিনেমাটি একই সঙ্গে বিনোদন এবং প্রবাসীদের জীবনের গভীর সংকটের বার্তা দেবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।


