বিনোদন ডেস্ক
বলিউড চলচ্চিত্র অঙ্গনে তারকাদের জীবনযাপন এবং শুটিং চলাকালীন তাদের বিবিধ চাহিদা নিয়ে প্রায়শই বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়। আউটডোর শুটিংয়ে আবাসন বা যাতায়াত সংক্রান্ত বিলাসিতার বাইরেও এবার সুপেয় বা বোতলজাত পানি দিয়ে স্নান করার মতো এক ব্যতিক্রমী ও ব্যয়বহুল তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মন্তব্যে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের ভিডিও থেকে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে অনেক শীর্ষস্থানীয় অভিনেতা শুটিং সেটে অস্বাভাবিক শর্ত জুড়ে দেন। এসব শর্তের মধ্যে অন্যতম হলো সাধারণ পানির পরিবর্তে মিনারেল ওয়াটার বা প্রক্রিয়াজাত বোতলজাত পানি দিয়ে স্নান করা। ক্ষেত্রবিশেষে এর জন্য প্রযোজকদের আলাদা পানির ট্যাংক বা বিপুল পরিমাণ বোতলজাত পানির ব্যবস্থা করতে হয়, যা চলচ্চিত্র নির্মাণের বাজেটে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা তৈরি করে।
এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে জনৈক নেটিজেন একজন জনপ্রিয় অভিনেতার নাম উল্লেখ করে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। সংশ্লিষ্ট ওই ব্যক্তির দাবি অনুযায়ী, ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বড় বাজেটের সিনেমার শুটিং চলাকালীন তিনি পোশাক বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন যে, ভোরবেলা অভিনেতার সহকারীরা বড় আকারের বোতলজাত মিনারেল ওয়াটার তার ভ্যানিটি ভ্যানে নিয়ে যেতেন। মূলত অভিনেতার প্রাত্যহিক স্নান ও আনুষঙ্গিক প্রয়োজনে এই পানি ব্যবহার করা হতো বলে ওই ব্যক্তির বক্তব্যে উঠে এসেছে।
বিনোদন জগতে এই ধরনের অভ্যাস বা চাহিদাকে ‘সেলিব্রিটি লাইফস্টাইল’ হিসেবে দেখা হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, যেখানে সুপেয় পানির সংকট একটি বৈশ্বিক সমস্যা, সেখানে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বিলাসিতার জন্য বিপুল পরিমাণ বোতলজাত পানি ব্যবহার করা এক ধরনের নৈতিক বিচ্যুতি এবং সম্পদের অপচয়। অন্যদিকে, তারকাদের অনুসারীদের একাংশের মতে, ত্বকের সুরক্ষা বা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধির খাতিরে আউটডোর লোকেশনে অনিরাপদ পানি বর্জন করতে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
শুটিং সেটে তারকাদের এই ধরনের উচ্চাভিলাষী চাহিদা মেটাতে গিয়ে প্রায়ই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় নির্মাণ সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় শুটিংয়ের সময় যখন স্থানীয় পর্যায়ে সুপেয় পানির সরবরাহ সীমিত থাকে, তখন বাইরে থেকে শত শত লিটার মিনারেল ওয়াটার সরবরাহ করা লজিস্টিক ও আর্থিক—উভয় দিক থেকেই চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। এটি চলচ্চিত্রের সার্বিক নির্মাণ ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, যা পরোক্ষভাবে চলচ্চিত্র শিল্পের অর্থনীতির জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়।
যদিও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অভিনেতা বা তার জনসংযোগ দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিতর্কটি বর্তমানে বেশ তুঙ্গে। তারকাদের বিলাসিতার সীমা ঠিক কতটুকু হওয়া উচিত এবং তা পরিবেশ বা জনমতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের অবকাশ তৈরি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই ধরনের তথ্যের সত্যতা নিয়ে অনুসন্ধান চললেও, বড় পর্দার পেছনের এই ব্যয়বহুল জীবনযাপন নিয়ে সাধারণ দর্শকদের কৌতূহল ও সমালোচনা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে।


