জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে পরিচিত ‘জুলাই সনদ’ এবং নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার পূর্ণ অঙ্গীকারাবদ্ধ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং জনকল্যাণমূলক প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

রোববার (০৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী ‘জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার এবং সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জুলাই সনদের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আমি দেশের মানুষের সামনে এবং মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে চাই। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের দাবির মুখে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ—এই দুটিই আমাদের কর্মপরিকল্পনার মূল ভিত্তি। আমরা যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার প্রতিটি দফা ও অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে চাই। এ ব্যাপারে আমাদের সরকারের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ় এবং আমরা এক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করব না।”

তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনগণের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও সংস্কারের যে রূপরেখা জুলাই সনদে বর্ণিত হয়েছে, তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন। আমি আশা করব, আপনারা আপনাদের মেধা, প্রজ্ঞা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।”

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি দিকনির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্নীতিমুক্ত এবং জনবান্ধব প্রশাসন নিশ্চিত করাই হবে এই সরকারের সাফল্যের চাবিকাঠি। জুলাই সনদের অঙ্গীকারগুলো কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে সেগুলোর দৃশ্যমান প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সুশাসনের যে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, তার সুফল যেন সাধারণ মানুষ অতি দ্রুত ভোগ করতে পারে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

উল্লেখ্য, এবারের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ প্রস্তাবনা সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপনের কথা রয়েছে। যার মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় সরকার কাঠামো শক্তিশালীকরণের বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী ও সচিবরা জেলা প্রশাসকদের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা প্রশাসনের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের যে কাজ শুরু হয়েছে, তা আরও ত্বরান্বিত হবে। জনগণের ভোটাধিকার এবং নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে রূপরেখা সরকার হাতে নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন আগামী বুধবার সমাপনী অধিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ