জাতীয় ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী শাসনামলের চরম দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের ফলে রাষ্ট্র ও জনগণ আজ বিপুল ঋণের চাপে পিষ্ট। বর্তমান সরকার প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আজ রবিবার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল ও বিভাজিত জনপ্রশাসন এবং চরম অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এই সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে। বিগত সময়ে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) প্রতিটি সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে পদ্ধতিগতভাবে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা এবং আমদানিনির্ভর অর্থনীতির কারণে দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তৈরি হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী হতাশা।
দেশের অভ্যন্তরীণ এই প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি বর্তমান সরকারের সামনে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, “বিশ্বের কোনো দেশই বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। তবে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের ভোগান্তি ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে এনে এই সংকট মোকাবিলা করা। সরকার সেই প্রচেষ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।”
প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা ফেরানোর গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, জনপ্রশাসন যদি নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে, তবেই জনরায়ের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটা সম্ভব। তিনি জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মকর্তারা যে পদেই দায়িত্বরত থাকুন না কেন, নিজেদের অর্পিত দায়িত্ব পালনে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। এসময় তিনি প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ঘোষণা দেন।
রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “আমরা দলমত নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন খাতের সম্ভাবনা চিহ্নিত করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে।”
সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। এই সনদের প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন করা হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সুশাসনই হবে বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।
জনগণের নিত্যদিনের দুর্ভোগ লাঘবে বাজার নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে। এই অশুভ তৎপরতা বন্ধে জেলা প্রশাসকদের নিয়মিত বাজার তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।” এসময় তিনি ভোক্তা অধিকার রক্ষায় এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা আরও জোরদার ও দৃশ্যমান করার জন্য জেলা প্রশাসকদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সারা দেশের জেলা প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের পরবর্তী অধিবেশনগুলোতে জেলা প্রশাসকদের স্থানীয় সমস্যা ও সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে।


