আইন আদালত ডেস্ক
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় ঝটিকা মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তামান্না নুসরাত বুবলীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার (৪ মে, ২০২৬) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম গত ২৯ এপ্রিল বুবলীকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ধার্য করেন। সোমবার শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকীর যুক্তি আমলে নিয়ে আদালত বুবলীকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
নরসিংদী পৌরসভার সাবেক মেয়র প্রয়াত লোকমান হোসেনের স্ত্রী তামান্না নুসরাত বুবলী গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন। ওই দিন রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় এক বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরদিন তেজগাঁও থানার অন্য একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দীর্ঘ সময় ধরে কারাবাসকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে নতুন এই মামলায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তার দাখিলকৃত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও থানা এলাকায় একটি ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বুবলীর প্রত্যক্ষ যোগসূত্র পাওয়া গেছে। স্থানীয় পর্যায়ে তদন্ত এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, তিনি ওই মিছিলের অন্যতম অর্থ জোগানদাতা ও নির্দেশদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। ঘটনার দিন তাকে ঘটনাস্থলের আশপাশে অন্যান্য সহযোগীদের সাথে সক্রিয়ভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে এবং বিস্ফোরণের পরপরই তিনি এলাকা ত্যাগ করেন। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে তদন্ত সংস্থা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে তেজগাঁও থানাধীন মনিপুরীপাড়া এলাকার ‘পার্ক টাউন রেস্টুরেন্টে’র সামনে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানারসহ একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মিছিলকারীরা পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কয়েকজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। ওই দিনই তেজগাঁও থানার এসআই একেএম নিয়াজউদ্দিন মোল্লা বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এই মামলাটি দায়ের করেন।
আইনজীবীদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের অধিকতর তদন্ত চলমান রয়েছে। বুবলীর আইনজীবী শুনানিকালে অভিযোগ অস্বীকার করলেও আদালত তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এর ফলে তামান্না নুসরাত বুবলীর আইনি জটিলতা আরও বৃদ্ধি পেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


