আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সোমবার ফুজাইরাহ এমিরেটের একটি তেল শিল্প অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আক্রমণের ক্ষেত্রে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, এই হামলায় তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হলেও একটি সাগরে পতিত হয় এবং পৃথক ড্রোন হামলায় তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যেখানে তিনজন শ্রমিক আহত হন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, চারটি ক্ষেপণাস্ত্র আমিরাতের লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়। তবে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি এবং সেটি সাগরে গিয়ে পড়ে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কিছু সময় পর একই এলাকায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ফুজাইরাহ এমিরেটের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, ড্রোন হামলার ফলে ফুজাইরাহ অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্মী ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। অগ্নিকাণ্ডে আহত তিনজনই ভারতীয় নাগরিক এবং তাদের শরীরে মাঝারি ধরনের আঘাত লেগেছে। আহতদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফুজাইরাহ অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোন সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত। এখানে একাধিক তেল শোধনাগার ও জ্বালানি ডিপো অবস্থিত, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এ ধরনের হামলা দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে এই হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। এতে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত তার ভূখণ্ড ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো আক্রমণের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এ ধরনের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে চলমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই হামলা ঘটেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ও স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য এখনও সীমিত।
এদিকে হামলার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনায় এ ধরনের হামলা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশের নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ফুজাইরাহর মতো কৌশলগত বন্দর ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং হামলার পেছনে কারা জড়িত তা নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।


