পিএসজি বাধা টপকাতে ব্যর্থ বায়ার্ন: হ্যান্ডবল আইন নিয়ে ক্ষোভ কোচ কোম্পানির

পিএসজি বাধা টপকাতে ব্যর্থ বায়ার্ন: হ্যান্ডবল আইন নিয়ে ক্ষোভ কোচ কোম্পানির

ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) কাছে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে তারা। দ্বিতীয় লেগে নিজেদের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করলেও ফাইনালের টিকিট পেতে ব্যর্থ হয় বায়ার্ন। তবে এই বিদায়ের চেয়েও হ্যান্ডবল আইনের অসামঞ্জস্যতা এবং রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি।

মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে বায়ার্ন শুরুতেই বড় ধাক্কা খায়। খেলার মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় রক্ষণভাগের অসতর্কতায় গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর পুরো ম্যাচে বায়ার্ন মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালেও পিএসজির সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে হিমশিম খেতে হয়। ইনজুরি সময়ের ৯৪ মিনিটে গোলমেশিন হ্যারি কেইন জালের দেখা পেয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান। তবে প্রথম লেগের ব্যবধান ঘোচাতে এই একটি গোল যথেষ্ট ছিল না। ফলে ১-১ গোলের সমতায় ম্যাচ শেষ হলেও দুই লেগ মিলিয়ে চূড়ান্ত জয় পায় পিএসজি।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভিনসেন্ট কোম্পানির মূল ক্ষোভ ছিল রেফারির সিদ্ধান্ত এবং হ্যান্ডবল আইনের প্রয়োগ নিয়ে। বিশেষ করে প্রথম লেগের বিতর্কিত একটি পেনাল্টি এবং দ্বিতীয় লেগের একই ধরনের ঘটনায় রেফারির ভিন্ন সিদ্ধান্তকে তিনি হারের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করেন। প্রথম লেগে আলফোনসো ডেভিসের থাইয়ে লেগে বল হাতে লাগলে পিএসজিকে পেনাল্টি দেওয়া হয়েছিল। অথচ বুধবার রাতের ম্যাচে পিএসজির জোয়াও নেভেসের হাতে একইভাবে বল লাগলেও পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরো পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি।

কোচ কোম্পানি বলেন, “বল সরাসরি হাতে লেগেছে, শরীর থেকে আসেনি। আইনের এই জটিল ব্যাখ্যাগুলো ফুটবলার ও কোচেদের জন্য বিভ্রান্তিকর। প্যারিসের সেই পেনাল্টি সিদ্ধান্তটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক, কারণ সামগ্রিক ফলাফলে আমরা মাত্র এক গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিদায় নিয়েছি। এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলো টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিচ্ছে।”

রেফারি নিয়ে সমালোচনা থাকলেও প্রতিপক্ষ পিএসজির কৌশলী ফুটবলের প্রশংসা করেছেন বায়ার্ন বস। তিনি মনে করেন, লুইস এনরিকের শিষ্যরা রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পেরেছে। কোম্পানির ভাষ্যমতে, পিএসজি অত্যন্ত সজাগ ও সক্রিয় ছিল। বায়ার্নের উইং থেকে আসা ক্রসগুলো তারা সফলভাবে রুখে দিয়েছে এবং রক্ষণভাগের পেছনের ফাঁকা জায়গাগুলো বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করেছে। বায়ার্ন আক্রমণভাগে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করলেও চূড়ান্ত শট নেওয়ার সুযোগগুলো নস্যাৎ করে দেয় প্যারিসের ডিফেন্ডাররা।

বিশ্লেষকদের মতে, বায়ার্নের এই বিদায় চ্যাম্পিয়নস লিগে হ্যান্ডবল ও ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে পুনরায় বিতর্কের সুযোগ করে দিয়েছে। একই ধরণের ফাউলে ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচে রেফারির ভিন্ন সিদ্ধান্ত ফুটবলারদের মনস্তাত্ত্বিক চাপে ফেলছে। বায়ার্ন মিউনিখ তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও পিএসজির লড়াকু মানসিকতার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে বাধ্য হয়েছে। এই জয়ের ফলে পিএসজি ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ফাইনালের মঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিল। অন্যদিকে, ঘরোয়া লিগের পর ইউরোপীয় আসর থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখকে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ