অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ফের বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে প্রতি ভরি স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১০ টাকা, যা দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালো। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক সভায় এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে নতুন এই মূল্য কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত বুধবারও স্বর্ণের দাম এক দফা বৃদ্ধি করা হয়েছিল, যার ঠিক একদিন পরেই পুনরায় এই সংশোধন আনা হলো।
নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১০০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ভরিতে ১ হাজার ৮০৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ২১৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও পিছিয়ে নেই; প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।
স্বর্ণের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রূপার দামও। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপার দাম ১১৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের রূপার দাম ১৭৫ টাকা বেড়ে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রূপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সনাতন পদ্ধতির রূপা এখন থেকে ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা দরে বিক্রি হবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে কাঁচামালের সংকটের কারণে স্বর্ণের দামে এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। ক্রমাগত দাম বৃদ্ধিতে অলঙ্কার শিল্প এবং সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপের সৃষ্টি করছে। বাজুসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।


