প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও জুতা বিতরণ: সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও জুতা বিতরণ: সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক

সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস, জুতা ও মোজা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে এই সামগ্রী বিতরণ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপে পাইলট কর্মসূচি হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলার নির্বাচিত দুটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থীকে মানসম্মত জুতা প্রদান করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় চামড়াজাত পণ্য ও জুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পাটের তৈরি ব্যাগ, স্কুল ড্রেস এবং ফুটওয়্যার সামগ্রী প্রদানের এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আর্থিক সংস্থান ও বাস্তবায়নে দেশের বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

সভায় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “আমরা চাই এই উদ্যোগটি কেবল একটি বিতরণ কর্মসূচি হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে শিশুদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ সহায়তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।” তিনি জুতার গুণগত মান ও নকশার ক্ষেত্রে অভিন্নতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জুতার মানের মধ্যে বৈষম্য থাকলে তা শিশুদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক অসম অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। এ কারণে সকল প্রতিষ্ঠানের মতামতের ভিত্তিতে একটি সর্বজনগ্রাহ্য মানদণ্ড নির্ধারণের নির্দেশ দেন তিনি।

কর্মসূচিটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি কারিগরি ও মান নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ছাড়াও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), লেদার ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ এবং সহযোগী করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী জুতার ডিজাইন, কোয়ালিটি চেকিং এবং সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে এই কারিগরি কমিটি কাজ করবে।

সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অংশ হওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে এ ধরনের পণ্য উৎপাদন করায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়।

উক্ত মতবিনিময় সভায় বাটা, এপেক্স, প্রাণ-আরএফএল এবং বসুন্ধরা গ্রুপসহ বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকল্পের প্রশাসনিক ও টেকনিক্যাল বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

শিক্ষাবিদদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পাবে এবং ঝরে পড়ার হার হ্রাস পাবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং শিক্ষায় সমতা আনয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সরকারের এই পাইলট প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হতে পারে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ