অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। এরই ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিল মাসজুড়ে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৪৪টি শিল্প, ৪২টি বাণিজ্যিক এবং ৫ হাজার ৪২টি আবাসিকসহ মোট ৫ হাজার ১২৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) তিতাস কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে মোবাইল কোর্ট ও তিতাসের নিজস্ব কারিগরি জনবল অংশ নেয়। রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এলাকা ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে পরিচালিত এসব অভিযানে অবৈধভাবে ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্যাসের প্রায় ২১ কিলোমিটার গ্যাস পাইপলাইন উচ্ছেদ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ফলে দৈনিক প্রায় ৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সাশ্রয় হচ্ছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ৯১৯ টাকা।
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও সংকটের এই সময়ে এ ধরনের অভিযান জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে। অবৈধ সংযোগের ফলে একদিকে সরকার যেমন বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ গ্রাহকরা পর্যাপ্ত চাপে গ্যাস পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া মানহীন পাইপ ও রাইজার দিয়ে নেওয়া এসব অবৈধ সংযোগ যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
অভিযান চলাকালীন আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের দায়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২৫ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় অবৈধ ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের বিরুদ্ধে ৬টি নিয়মিত মামলা এবং ৩টি প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর) দায়ের করা হয়েছে।
সংস্থার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে তিতাস কর্তৃপক্ষ নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে। অবৈধ সংযোগ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার অভিযোগে কোম্পানির ১৪ জন কর্মকর্তা ও ১৬ জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় ৫ জন ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি সম্পদ রক্ষায় এবং গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এই ধরনের চিরুনি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে নজরদারি বাড়িয়ে সিস্টেম লস কমিয়ে আনতে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে গ্যাস সংযোগ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে সাধারণ গ্রাহকদেরও সতর্ক করা হয়েছে।


