জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র হজ পালন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে হজযাত্রীদের যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৫০ হাজার ৯৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। মোট ১২৮টি ফ্লাইটে তারা জেদ্দা ও মদিনার বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। শনিবার হজ সম্পর্কিত নিয়মিত বুলেটিন ও হেল্প ডেস্কের তথ্যের ভিত্তিতে এ চিত্র উঠে এসেছে।
হেল্প ডেস্কের তথ্যানুযায়ী, হজযাত্রী পরিবহনে তিনটি বিমান সংস্থা কাজ করছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৫৯টি ফ্লাইটে ২৩ হাজার ৫৯১ জন, সৌদি এয়ারলাইনসের ৪৭টি ফ্লাইটে ১৭ হাজার ৬৪৬ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৮৮৯ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। সংগৃহীত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ পর্যন্ত পৌঁছানো যাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৪ হাজার ৭১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৪৬ হাজার ২৫ জন।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা এবং সৌদি আরবস্থ বাংলাদেশ হজ মিশন নিবিড়ভাবে কাজ করছে। মোট ৬৬০টি অনুমোদিত এজেন্সি এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটটি জেদ্দার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই হজ ফ্লাইটের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেছিলেন। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে বাকি হজযাত্রীদের পাঠানো হচ্ছে। হজ অফিসের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নির্ধারিত সকল হজযাত্রীকে সৌদি আরবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে।
নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী, এ বছর মোট হজযাত্রীর মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মক্কায় আবাসন নিশ্চিত করতে বিশেষ পর্যবেক্ষক দল কাজ করছে। মক্কা ও মদিনায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সার্বক্ষণিক সহায়তা প্রদানের জন্য হজ কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার আগে আগামী কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই সময়ে ঢাকা থেকে সৌদি আরবে ফ্লাইটের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। বিমান সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল হজযাত্রীকে পৌঁছে দিতে তারা অতিরিক্ত ফ্লাইটের ব্যবস্থাও রেখেছে। হজযাত্রীদের সুবিধার্থে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মুসলিম উম্মাহর এই গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় জমায়েতকে ঘিরে মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা জোরদার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল হাজিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত, যেদিন শেষ ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবারের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে।


