দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায়, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ছাড়াল

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায়, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ছাড়াল

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বাজারে স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যবান এই ধাতুর মূল্য আবারও পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

শনিবার (৯ মে) থেকে সারাদেশে বাজুস নির্ধারিত এই নতুন মূল্য তালিকা কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে সংগঠনের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক সভায় এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে কাঁচামালের সংকটের কারণে স্বর্ণের মূল্যে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বাজুস কর্তৃক প্রকাশিত নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ এখন থেকে ২ লাখ ৪৪ thousand ৭১১ টাকায় বিক্রি হবে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের এই নির্ধারিত মূল্যের ওপর সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি যুক্ত করে গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর মাত্র তিন দিন আগে গত ৬ মে স্বর্ণের দাম একবার সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দফায় স্বর্ণের দাম প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘন ঘন দামের এই পরিবর্তনে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৬৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৮ বার কমানো হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় চলতি বছরে মূল্য পরিবর্তনের হার এবং গতি অনেক বেশি। ২০২৫ সালে পুরো বছরে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার মূল্য বৃদ্ধি পায়।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের সরবরাহ ঘাটতি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মানের অবমূল্যায়ন দেশের বাজারে স্বর্ণের দামকে এই উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সাধারণ মধ্যবিত্তের নাগালে বাইরে চলে যাওয়ায় অলঙ্কার শিল্পের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের ক্রমবর্ধমান মূল্য অনেককে আগ্রহী করে তুললেও খুচরা বাজারে এর চাহিদা বর্তমানে নিম্নমুখী। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ