আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে তেল বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগে ইরাকের তেল সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আলি মারিজ আল-বাহাদলিসহ ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীর বেশ কয়েকজন নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিল মার্কিন অর্থ বিভাগ।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান, ইরানি শাসকগোষ্ঠী ইরাকের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরাকের তেল সম্পদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ইরান তার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা আসলেও এখন পর্যন্ত বাগদাদ বা তেহরান কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান আলি মারিজ আল-বাহাদলি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির তেল ও গ্যাস খাতের নীতি নির্ধারণে যুক্ত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তেল চোরাচালান প্রক্রিয়ার অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় রাখতেন। মূলত ইরানি তেলকে ‘ইরাকি তেল’ হিসেবে লেবেল করে বিশ্ববাজারে পাচারের মাধ্যমে তেহরানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করতেন তিনি।
আল-বাহাদলি ছাড়াও আসাইব আহল আল-হক এবং কাতাইব সাইয়্যিদ আল-শুহাদা নামক ইরানপন্থী মিলিশিয়া সংগঠনের শীর্ষ নেতা মুস্তফা হাশিম লাজিম আল-বাহাদলি, আহমেদ খুদাইর মাকসুস ও মোহাম্মদ ইসা কাদিম আল-শুয়াইলির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অস্ত্র ক্রয় এবং চোরাচালান চক্রে সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান একটি সুসংগঠিত চোরাচালান চক্রের মাধ্যমে বছরে অন্তত ১০০ কোটি ডলার আয় করে। এই প্রক্রিয়ায় ইরানি জ্বালানিকে ইরাকি খনিজ পণ্যের সঙ্গে মিশিয়ে ‘পুরোপুরি ইরাকি পণ্য’ হিসেবে রপ্তানি করা হয়। এর ফলে ইরান বৈশ্বিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেনের সুযোগ পায়। চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরাকের তেলমন্ত্রী হায়ান আবদেল-গনিও স্বীকার করেছিলেন যে, কিছু ইরানি ট্যাংকার ভুয়া ইরাকি নথি ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি আরও কঠোর করা হয়েছে। ইরানের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ এবং বাজেটের এক-চতুর্থাংশ তেল খাতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরাক সরকার যদি তেহরানের সঙ্গে অতি ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখে, তবে বাগদাদের ওপর মার্কিন সহায়তা বন্ধের মতো কঠোর পদক্ষেপও আসতে পারে।


