সিরীয় প্রশাসনে বড় রদবদল: প্রেসিডেন্সি ও তিন মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ

সিরীয় প্রশাসনে বড় রদবদল: প্রেসিডেন্সি ও তিন মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল সারা। শনিবার (৯ মে) এক ডিক্রি জারির মাধ্যমে প্রেসিডেন্সির সাধারণ সম্পাদকসহ একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কয়েকটি প্রদেশের গভর্নর পদে এই রদবদল কার্যকর করা হয়। ক্ষমতার এই নতুন বিন্যাসে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে প্রেসিডেন্সি সচিবালয় ও কৃষি খাতের মতো স্পর্শকাতর দপ্তরগুলো।

প্রেসিডেন্টের এই আদেশ অনুযায়ী, সিরীয় প্রেসিডেন্সির সেক্রেটারি জেনারেল পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মাহের সারাকে, যিনি বর্তমান প্রেসিডেন্টের আপন ভাই। দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় মাহের এই পদে থেকে প্রশাসনের নীতি নির্ধারণে নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে হোমস প্রদেশের সাবেক গভর্নর আব্দুল রহমান বাদরেদ্দিন আল-আমআকে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আল-আমআকে এই পদে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্সি সচিবালয়ে পেশাদারিত্ব ও আমলাতান্ত্রিক গতিশীলতা আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

মন্ত্রণালয় পর্যায়ে তথ্য ও কৃষি খাতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। তথ্যমন্ত্রী হামজা আলমুস্তাফাকে সরিয়ে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খালেদ ফাওয়াজ জারুরকে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বহির্বিশ্বে সিরিয়ার ভাবমূর্তি গঠন ও দেশের অভ্যন্তরীণ তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে তথ্য মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া কৃষিমন্ত্রী আমজাদ বদরকে সরিয়ে বাসেল হাফেজ আল-সুইদেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত-বিক্ষুব্ধ সিরিয়ার ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মপন্থা পরিবর্তনের লক্ষে এই নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে আকস্মিকভাবে এই পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ সরকারিভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।

প্রাদেশিক প্রশাসনে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হোমস, কুনিত্রা, লাতাকিয়া এবং দের ইজ্জুর—এই চার গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে নতুন গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। মূলত মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করাই এই পরিবর্তনের প্রধান উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাসার আল-আসাদের পতনের মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। এরপর ২০২৫ সালের মার্চে আহমেদ আল সারা পাঁচ বছর মেয়াদী একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সারা তার প্রশাসনের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করছেন। সাম্প্রতিক এই রদবদলকে অনেকে ক্ষমতার সংহতকরণ ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখছেন। বিশষজ্ঞদের মতে, একটি টেকসই রাষ্ট্র কাঠামো বিনির্মাণে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে স্থায়ী নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এই ব্যাপক রদবদলের ফলে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল রয়েছে। বিশেষ করে মাহের সারার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন আনে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। অন্তর্বর্তীকালীন এই সরকার এখন এই নতুন নেতৃত্বের অধীনে অর্থনৈতিক সংস্কার ও শান্তি বজায় রাখার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করবে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ